পরিকাঠামোয় নজর নেই, স্কুলবাড়ি নীল-সাদা করতে ৫০০ কোটি

মঙ্গলবার স্কুলশিক্ষা সচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালার স্বাক্ষরিত নির্দেশে বলা হয়েছে, স্কুলবাড়ি রং করতে বরাদ্দ ৫০৪ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার মধ্যে প্রাথমিক ভাবে দেওয়া হচ্ছে ১৫০ কোটি।

Advertisement

মধুমিতা দত্ত

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:১১
Share:

শহর-গ্রামের অসংখ্য স্কুলে ব্যাপক ঘাটতি পরিকাঠামোর। তার সুরাহার আগেই সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকার পোষিত স্কুলে শুধু রং করার জন্য ৫০০ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ করল নবান্ন। স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, স্কুলে নীল–সাদা রং করতে বলা হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।

Advertisement

মঙ্গলবার স্কুলশিক্ষা সচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালার স্বাক্ষরিত নির্দেশে বলা হয়েছে, স্কুলবাড়ি রং করতে বরাদ্দ ৫০৪ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার মধ্যে প্রাথমিক ভাবে দেওয়া হচ্ছে ১৫০ কোটি। এই সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের মধ্যে। শিক্ষক মহলের একাংশের বক্তব্য, অনেক স্কুলেরই বুনিয়াদি কাঠামো নড়বড়ে। সেগুলো ঠিক না-করে রং করার জন্য এত টাকা বরাদ্দ করাটা সরকারের খামখেয়ালিপনা ছাড়া কিছু নয়।

রাজ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা প্রায় ৬৭ হাজার। সচিবের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে-সব স্কুল পাঁচ বছর আগে তৈরি হয়েছে বা যেখানে তিন বছরের মধ্যে রং করা হয়েছে, সেগুলো ছাড়া সব স্কুলকেই তাদের বাইরের অংশ রং করাতে হবে। এই বিষয়ে কমিটি গড়া হবে জেলাশাসকের নেতৃত্বে। সব স্কুলবাড়ির ছবি তুলে পাঠাতে হবে সেই কমিটির কাছে। স্কুলবাড়ির বাইরের দেওয়ালে সিমেন্টের প্রলেপ ও রং লাগানোর টাকা মিলবে। শিক্ষা দফতর প্রতি বর্গমিটার রং করার খরচ ধার্য করেছে ৩০ টাকা ৫৭ পয়সা।

Advertisement

আরও পড়ুন: প্রচুর লগ্নি, ২০ লক্ষ কর্মসংস্থান! ঘটা করে ঘোষণা রাজ্যের

বিভিন্ন জেলায় স্কুল উন্নয়নে বরাদ্দ টাকা পড়ে আছে। স্কুল পরিদর্শকদের কাছে তার হিসেব চেয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতর। এক শিক্ষাকর্তা জানান, রং করার জন্য প্রথমে ১৫০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। অব্যবহৃত টাকা থেকে বাকি খরচ মেটানো হবে। রং করার সময়েও নিয়মিত ক্লাস চালাতে হবে।

রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার। পশ্চিমবঙ্গ সেভ এডুকেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কার্তিক সাহা জানান, বহু প্রাথমিক স্কুলে ক্লাসরুমই নেই। অনেক স্কুলবাড়ির অবস্থা বেশ খারাপ। ছেলে ও মেয়েদের আলাদা শৌচাগারও নেই অনেক স্কুলে। নেই বিদ্যুৎ, পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা। ‘‘এত ঘাটতির মধ্যে শুধু স্কুলবাড়ির দেওয়াল রং করে কী হবে? অন্যান্য ঘাটতিও তো মেটাতে হবে,’’ বলছেন কার্তিকবাবু। শুধু স্কুলভবন রং করার জন্য বিপুল বরাদ্দের সিদ্ধান্তকে সরকারের খামখেয়াল বলে অভিহিত করেছেন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘‘পরিকাঠামোর খামতির দিকে দৃষ্টি নেই সরকারের। শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ-র দিকেও নজর নেই। শুধু রঙের জন্য ৫০০ কোটি বরাদ্দ করে দিল। এটা খামখেয়াল ছাড়া কিছু নয়।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement