(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের ‘বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন’-এ (বিজিবিএস) আর্থিক দুর্নীতি হয়ে থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রীপদে নরেন্দ্র মোদীর ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি বিজিবিএস নিয়ে এই মন্তব্য করেন। বিষয়টি নিয়ে মামলা এবং তদন্ত হবে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানান।
মুখ্যমন্ত্রী শুক্রবার বলেছেন, ‘‘বিজিবিএস করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে মোট ৬৩৫ কোটি টাকা দিয়ে গিয়েছেন। এরও তদন্ত হবে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘শুধু তদন্ত নয়, মামলা করব। প্রয়োজনে আর্থিক তছরুপের যাঁরা তদন্ত করেন, তাঁদের দায়িত্ব দেব। আমরা ছাড়ব না।’’
বিজিবিএস-এর বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে নানা মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। মমতা মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন এই বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন শুরু হয়। শুরু থেকেই বিরোধীরা এই কর্মসূচির সমালোচনায় সরব ছিলেন। বিপুল ব্যয়ে এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়, কিন্তু রাজ্যের তাতে কোনও লাভ হয় না— এই ছিল বিরোধী শিবিরের অভিযোগ। বিজিবিএস শেষে প্রতি বছরই বহু কোটি টাকার বিনিয়োগ সংক্রান্ত মউ স্বাক্ষরের কথা শোনাত মমতার সরকার। কিন্তু কতগুলি মউ বাস্তবায়িত হল, প্রকৃত লগ্নি কতটা এল, সে হিসাব তুলে ধরার ক্ষেত্রে তৎকালীন রাজ্য সরকারের তেমন উৎসাহ দেখা যেত না। গোটা বিরোধী শিবিরই দাবি করত যে, বিজিবিএস থেকে লগ্নি আসার স্বচ্ছ হিসাব তুলে ধরলে সরকারকে লজ্জায় পড়তে হবে। তাই হিসাব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়। এ বার তার সঙ্গে জুড়ে গেল বহু কোটি টাকার ‘দুর্নীতি’ সংক্রান্ত সংশয়।
মুখ্যমন্ত্রী কোনও সংস্থার নাম করেননি। কিন্তু তাঁর অভিযোগের পরে গত কয়েক বছরে মমতার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হয়ে ওঠা এক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার মালিকের দিকেই সন্দেহের তির গিয়েছে। তদন্তে আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ মিললে এই সঙ্কটকালে আরও বিড়ম্বনা বাড়বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।