—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) নোটিস পেয়ে ‘আতঙ্কে’ কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন কোচবিহারের এক যুবক। সেই খবর শুনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন তাঁর বাবাও। অন্য দিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে এসআইআর আতঙ্কে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগও উঠেছে।
সোমবার একই দিনে রাজ্যের দুই প্রান্তে ঘটল দুই ঘটনা। সকালে কোচবিহারের শীতলখুচি ব্লকের ছোট শালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আটিয়াবাড়ি নেপড়া এলাকার বাসিন্দা বুলু মিয়া এসআইআরের নোটিস হাতে পান। পরিবারের অভিযোগ, নোটিস আসার পর থেকে ভয়-আতঙ্ক গ্রাস করেছিল তাঁকে। পরিবারে একমাত্র তাঁর নামে নোটিস আসতে চিন্তায় পড়ে যান। বিকেলের দিকে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি!
পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় বুলুর বাবার নামের বানান ভুল ছিল বলে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে শুনানিকেন্দ্রে হাজিরা দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল নোটিসে। বুলুর দাদা নূর বক্কর মিয়া জানান, এসআইআরের নোটিস হাতে পাওয়ার পর থেকেই খুব চিন্তা করছিল ভাই। আর সেই কারণে চাষে ব্যবহৃত কীটনাশক খেয়ে ফেলে।
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বুলুকে শীতলখুচি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসা চলছে তাঁর। পুত্রের এমন অবস্থার কথা শুনে অসুস্থবোধ করেন বুলুর বাবা। বর্তমানে শীতলখুচি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন তিনি। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব বিষয়টি সরব হয়েছেন। তৃণমূলের মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘‘এসআইআর এবং আতঙ্ক সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সব দেখে মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশন নির্মম কমিশন হয়ে উঠেছে। বিজেপিকে খুশি করতেই এই রকম কাজ করছে তারা।’’
অন্য দিকে, এসআইআরের আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে। সোমবার মুল্টি-কামদেবপুর এলাকার বাসিন্দা পিয়ার আলি খাঁ (৭১) হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগেই তাঁর নামে এসআইআরের শুনানির নোটিস আসে। আগামী ২৯ জানুয়ারি তাঁর শুনানির দিন ধার্য ছিল। নোটিস পাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।
পরিবারের দাবি, নোটিস পাওয়ার পর থেকেই সকলের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন পিয়ার। শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জোগাড় করতে গিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন তিনি। সেই মানসিক চাপের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। প্রথমে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে কলকাতার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। সেখানে দু’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু হয় তাঁর।