অশোককুমার হালদার। — নিজস্ব চিত্র।
শিক্ষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পাচ্ছেন অশোককুমার হালদার। মালদহের অশোক কর্মজীবন শুরু করেছিলেন রেলের নিরাপত্তাকর্মী হিসাবে। মালগাড়ির একাকিত্ব কাটাতে কাজের ফাঁকেই লেখা শুরু করেন তিনি। পরে দলিত সাহিত্যিক হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে লেখালিখির পর ২০২৬ সালের পদ্মসম্মানের তালিকায় উঠে এসেছে তাঁর নাম। স্বাভাবিক ভাবেই খুশি পরিবার।
৬৬ বছর বয়সি অশোক রেল গার্ডের পদে কর্মরত ছিলেন। ২০১৯ সালে চাকরি জীবন থেকে অবসর নেন। বাড়ি মালদহের ইংরেজবাজার শহরের বিধানপল্লি এলাকায়। পরিবারের রয়েছেন স্ত্রী ইলা, বড় ছেলে অমিত ও ছোট ছেলে কিঙ্কর। স্ত্রী গৃহবধূ। বড় ছেলে গাজল ব্লকে অস্থায়ী কর্মী পদে কর্মরত। ছোট ছেলে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য চেষ্টা করছেন।
অশোকের জন্ম মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলাতে। বাবাও রেলে কর্মরত ছিলেন। অশোকের স্কুল জীবন শুরু হয় লালগোলা এমএন অ্যাকাডেমি থেকে। ১৯৮৫ সালে বহরমপুরের কেএন কলেজ থেকে বিএসসি পাস করেন। পরের বছরই পূর্ব রেলের মালদহ ডিভিশনে রেল গার্ড পদে কর্মরত হন। চাকরির প্রথম পর্যায়ে মালগাড়ির গার্ড ছিলেন। সেই সময়ে বাংলা, বিহার ও ঝড়খণ্ডের বিভিন্ন জায়গায় জন্য যেতেন। পাহাড়, পর্বত, গাছ ও জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে চলত মাল গাড়ি। আর তিনি থাকতেন কোচে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই লেখার চিন্তাভাবনা শুরু করেন অশোক। ত্রিপুরার বিভিন্ন পত্রিকায় আড়াই হাজারের বেশি তাঁর লেখা বেরিয়েছে। ইংরেজি ও বাংলা ভাষায়, ১৩টি বই রয়েছে। ইংরেজিতে রয়েছে আটটি বই ও বাংলায় পাঁচটি বই রয়েছে। এর আগে অশোক প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে তাঁর বই পাঠিয়েছিলেন। তাঁকে রাষ্ট্রপতি ভবনে ডেকে পাঠিয়েছিলেন প্রণব। এর পর আরও উৎসাহ নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন তিনি।
২০১৭ সালে আশোকের একটি বই প্রকাশ হয়। বইটির নাম ‘দ্য ব়্যাডিক্যাল চেঞ্জ অফ হিউম্যান সোসাইটি অ্যান্ড উইথ সাইন্টিফিক অবজ়ারভেশন’। অশোককে সাহায্য করেছেন তাঁর স্ত্রী ও দুই পুত্র। গত বছর ২৭ জুলাই তাঁর স্ত্রী এই বইটি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পদ্মশ্রীর জন্য অশোকের নামে আবেদন করেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের সঙ্গে দেখা করেছিলেন আশোক তাঁর বই নিয়ে। পদ্মসম্মানের তালিকায় আশোকের নাম থাকায় খুশি গোটা পরিবার।