পরীক্ষায় ফেল করেছে ছেলে। তাকে পাশ করানোর দাবিতে লোক জুটিয়ে নিয়ে গিয়ে স্কুলে গেটে তালা ঝুলিয়ে দিলেন পরিচালন সমিতিরই সদস্য।
মঙ্গলবার চাপড়ার ছোট আন্দুলিয়া আঞ্চলিক বিদ্যাপীঠের এই ঘটনায় অভিযুক্ত আউজ বিল্লা শেখ এলাকায় সক্রিয় তৃণমূল কর্মী বলেই পরিচিত। তবে প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে।
চাপড়ার ওই স্কুলে এ বার নবম শ্রেণির প্রায় সাড়ে তিনশো ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ৯৬ জন ফেল করেছে (যার মধ্যে ৩৫ জন পরীক্ষাতেই বসেনি)। বিল্লা শেখের ছেলে তাদেরই এক জন। মাস দুয়েক আগে পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। তার পর থেকেই ছেলেকে পাশ করানোর জন্য বিল্লা স্কুল কর্তৃপক্ষকে চাপ দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। স্কুল কর্তৃপক্ষ অবশ্য তা মানতে চাননি।
স্কুল ও পুলিশ সূত্রের খবর, এই নিয়ে বিল্লার সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের একাধিক বার বাদানুবাদ হয়েছে। প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘‘আমরা সকলে মিলে সিদ্ধাম্ত নিয়েছিলাম যে এ বার অকৃতকার্য কোনও পড়ুয়াকে আর নতুন ক্লাসে তুলব না। স্কুলের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যাতে পড়ুয়ারা আরও মনোযোগী হয়। নবম শ্রেণিতে কড়াকড়ি করলে মাধ্যমিকে ফলও ভাল হয়।’’
কিন্তু পরিচালন সমিতির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ছেলের ফেল করা মানতে পারছিলেন না বিল্লা। প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, ‘‘উনি আমাদের চাপ দিচ্ছিলেন। নানা ভাবে বুঝিয়েও লাভ হয় নি। কিছু লোককে খেপিয়ে তিনি স্কুল বন্ধ করতে চেয়েছিলেন।’’
আরও বেশ কিছু ফেল করা পড়ুয়া ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেলা ১০টার মধ্যে স্কুলের সামনে এসে জড়ো হন বিল্লা। স্কুলের গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। সমবেত জনতার উদ্দেশে বিল্লা বলতে থাকেন, ‘‘একটা ক্লাসে এক সঙ্গে ৯৬ জন পাশ করতে পারল না। তা হলেই বুঝুন, কেমন পড়াশুনো হয়! সারাটা বছর ধরে শিক্ষকরা কী পড়ান যে ছাত্ররা পাশই করতে পারে না?’’
এরই মধ্যে শিক্ষকেরা একে-একে এসে হাজির হতে থাকেন স্কুলের সামনে। আসে পড়ুয়ারাও। শিক্ষকেরা স্কুলে ঢুকতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। পড়ুয়ারা প্রতিবাদ করে। তারা জোর করে স্কুলে ঢুকতে গেলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পড়ে গিয়ে আহত হয় জনা পাঁচেক পড়ুয়া।
এর পরেই পুলিশ বিল্লাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূলের ব্লক সভাপতি আব্দুল রশিদ মল্লিক বলেন, ‘‘আমাদের দলের লোক হিসাবেই ওই ব্যক্তিকে স্কুলের পরিচালন সমিতিতে ঠাঁই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এটাও ঠিক যে দল কোন অনৈতিক কাজে প্রশ্রয় দেবে না।’’ তিনিও জানান, স্কুলের স্বার্থেই সহমতের ভিত্তিতে পরিচালন সমিতি ফেল-করা পড়ুয়াদের ক্লাসে না তোলার সিদ্ধাম্ত নিয়েছিল। সভাপতি বলেন, ‘‘কোনও অবস্থাতেই এই সিদ্ধান্তের নড়চড় হবে না। তার বাইরে গিয়ে যদি কেউ কিছু করতে যায় তো সে শাস্তি পাবে।’’