Rebel TMC MPs

‘তৃণমূল একটাই, কোনও পৃথক গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেবেন না’! অভিষেকের চিঠি স্পিকারকে পৌঁছে দিলেন কীর্তি, সাগরিকা

সোমবার লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করার কথা তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের। তার ঠিক আগে স্পিকারের কাছে তিন পাতার চিঠি পাঠালেন অভিষেক। কোনও পৃথক ব্লককে স্বীকৃতি না দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ১৮:৩১
Share:

(বাঁ দিকে) ওম বিড়লা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

তৃণমূলের ভাঙনপর্বের মাঝে এ বার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন পাতার ওই চিঠিতে অভিষেক লিখেছেন, “তৃণমূল একটি অখণ্ড রাজনৈতিক দল। আইনতও তৃণমূল একটিই।” তৃণমূলের সংসদীয় দলের মধ্যে কোনও পৃথক গোষ্ঠীকে যাতে স্বীকৃতি না-দেওয়া হয়, স্পিকারের কাছে সেই আর্জি জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

Advertisement

আগামী সোমবার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করার কথা লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহীদের। তৃণমূলের পৃথক ‘ব্লক’ গঠনের আর্জি জানাবেন তাঁরা। ঠিক তার আগেই স্পিকারের কাছে তিন পাতার চিঠি পাঠিয়ে দিলেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক। রবিবার বিকেলে তাঁর চিঠি স্পিকারের কাছে পৌঁছে দেন ‘কালীঘাট শিবিরের’ অনুগত রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং লোকসভার কীর্তি আজাদ।

ঘটনাচক্রে, সাগরিকা এবং কীর্তি যখন দিল্লির ২০, আকবর রোডে স্পিকারের বাসভবনে যান, তখন ৯, মতিলাল নেহরু মার্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাংলোয় বৈঠক করছেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা।

Advertisement

চিঠিতে অভিষেক লিখেছেন, “তৃণমূল একটি অখণ্ড রাজনৈতিক দল। লোকসভায় যে সংসদীয় দল রয়েছে, সেটিও মূল রাজনৈতিক দলের উপরেই নির্ভরশীল এবং তা ওই রাজনৈতিক দলেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আইনত তৃণমূল একটিই। একইভাবে একজন করেই লোকসভার দলনেতা এবং এক হুইপ আছেন। তাঁরা সকলেই মূল রাজনৈতিক দল এবং তার সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে নিজ নিজ পদে থাকেন। সাংসদেরা কখনও একই দলের মধ্যে নিজেদের ইচ্ছামতো কোনও সমান্তরাল ‘গোষ্ঠী’ তৈরি করে লোকসভায় পৃথক স্বীকৃতির দাবি করতে পারেন না।”

এ প্রসঙ্গে মহারাষ্ট্রের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কী কী বলেছিল, তা-ও চিঠিতে উল্লেখ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেকের চিঠি পৌঁছে দেওয়ার পর স্পিকারের বাসভবন থেকে বেরিয়ে পুরনো রায়ের কথা উল্লেখ করে কীর্তি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ জানিয়েছে, কোনও বিভাজন হতেই পারে না।” সাগরিকাও বলেন, “এ রকম ভাবে যারা ভাঙতে চেষ্টা করছে, তারা সফল হবে না। আমরা চিঠি দিয়েছি। যারা একজোট হতে চাইছে, এটা সংবিধানের একেবারে বিরুদ্ধে।”

উল্লেখ্য, রবিবার দুপুরে ভূপেন্দ্রের বাংলোয় ফের এক দফা বৈঠকে বসেছিলেন বিদ্রোহী সাংসদেরা। বৈঠকের একটি ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব, পার্থ ভৌমিক, অসিত মাল, জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়, শর্মিলা সরকার, মিতালি বাগ, বাপি হালদার, ইউসূফ পাঠান, জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষ এবং কালীপদ সোরেনকে দেখা যাচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement