—প্রতীকী চিত্র।
মোদী সরকার তথা বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রের স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত চালু না করার জন্য তৃণমূল সরকারকে দুষে এসেছে। উল্টো দিকে তৃণমূল বলেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের নিজস্ব স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে অন্য রাজ্যে গেলে স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পান না বলে বিজেপি ঘোষণা করেছে, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বাংলায় আয়ুষ্মান ভারত চালু হবে।
ভোটের মরসুমে এই রাজনৈতিক তর্কবিতর্কের মধ্যেই এ বার মোদী সরকারেরই পরিসংখ্যান মন্ত্রকের রিপোর্ট জানাল, জাতীয় স্তরে এক বার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিজের পকেট থেকে গড়ে যা খরচ হচ্ছে, সেই তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে অনেক কম খরচ করতে হচ্ছে। পরিসংখ্যান মন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, এখন গোটা দেশে অনেক বেশি মানুষ স্বাস্থ্য বিমার আওতায় এসেছেন। তা সত্ত্বেও হাসপাতালের বিল জনতার পকেটে চাপ ফেলছে। দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ এখন স্বাস্থ্য বিমার আওতায় রয়েছেন। কিন্তু বিমার অতিরিক্ত যে টাকা নিজের পকেট থেকে খরচ করতে হচ্ছে, তার পরিমাণ যথেষ্ট। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রক ২০২৫-এ স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পারিবারিক খরচ নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছিল। সেই জাতীয় নমুনা সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, জাতীয় স্তরে এখন নিজের পকেট থেকে এক বার হাসপাতালের চিকিৎসার গড় খরচ ৩৪,০৬৪ টাকা। পশ্চিমবঙ্গে এই গড় খরচ অনেক কম—২৬,৪৫২ টাকা। বড় রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি পকেট থেকে হাসপাতালের চিকিৎসার খরচ তেলঙ্গানায়। গড়ে ৪৬,৩১৬ টাকা। তামিলনাড়ু, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্রে হাসপাতালে চিকিৎসার গড় খরচ ৪০ হাজার টাকার উপরে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে তা ৩০ হাজার টাকারও কম।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর পিছনে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সাফল্য প্রধান কারণ। কলকাতার ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ়-এর অধ্যাপক সীমন্তিনী মুখোপাধ্যায় বলেন, “স্বাস্থ্য খাতে মাথা-পিছু নিজস্ব ব্যয়ের নিরিখে দেশের মধ্যে এগিয়ে থাকত পশ্চিমবঙ্গ। এমনকি স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২-এও এই খরচ ছিল কেরল ছাড়া সমস্ত রাজ্যের চেয়ে বেশি। ২০২৫ সালের জাতীয় নমুনা সমীক্ষা দেখাচ্ছে এক বার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার গড় নিজস্ব খরচ এ রাজ্যে এখন ২৬,৪৫২ টাকা। ভারতে যা ৩৪,০৬৪ টাকা। স্বাস্থ্য বিমায় প্রাপ্ত টাকা বাদ দিয়ে যে খরচ হয়, তা-ই হল নিজস্ব খরচ বা আউট-অব-পকেট এক্সপেন্ডিচার। পশ্চিমবঙ্গে এই খরচ কমে আসার কারণ হিসেবে উঠে আসছে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের বিস্তৃতি। জাতীয় নমুনা সমীক্ষার সাম্প্রতিক রাউন্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখছি স্বাস্থ্য বিমার বিস্তার এই রাজ্যে এখন বড় রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি। রাজ্যে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের এখন স্বাস্থ্যবিমা আছে।” পরিসংখ্যান মন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, ২০১৭-১৮-তে শেষ সমীক্ষা অনুযায়ী, গ্রামের মাত্র ১৪%, শহরের মাত্র ১৯% মানুষের স্বাস্থ্য বিমা ছিল। সেই তুলনায় গোটা দেশে এখন গ্রামের ৪৭% মানুষ স্বাস্থ্য বিমার আওতায় রয়েছেন। শহরের প্রায় ৪৪% মানুষের স্বাস্থ্য বিমা রয়েছে।
রিপোর্ট বলছে, দেশের মানুষের মধ্যে এখন জীবনযাত্রার ফলে তৈরি অসুখের হার বেড়েছে। কমেছে সংক্রমণ জনিত রোগ। দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষের হৃৎপিণ্ড বা রক্তনালী সম্পর্কিত ও হজমের সমস্যাজনিত অসুখ রয়েছে। যেমন হাইপারটেনশন, হৃদ্রোগ, ডায়াবিটিস, থাইরয়েড। ২০১৭-১৮-র সমীক্ষায় মাত্র ১৬% মানুষ হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালী সম্পর্কিত অসুখের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। ২০২৫-এর সমীক্ষায় ২৫.৬% মানুষ এই অসুখের কথা জানিয়েছেন। একই ভাবে হজম সংক্রান্ত রোগে ভোগা মানুষের সংখ্যাও ১৫% থেকে বেড়ে ২৪% ছাপিয়ে গিয়েছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে