বিমান বসু। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
মাইলের পর মাইল পদযাত্রায় তিনি বাম রাজনীতির কিংবদন্তি। রাত জেগে লাগাতার কর্মসূচিতে তাঁর রেকর্ড যে কোনও বাম নেতার কাছে ঈর্ষনীয়। সেই তিনি, বিমান বসু গত কয়েক বছর ধরেই আর দীর্ঘ পথ হাঁটতে পারেন না। এ বার চিকিৎসকের নির্দেশে রাতের কর্মসূচি থেকেও দূরে সরতে হল তাঁকে।
বুধবার রাতভর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের দফতরের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ চালায় বামেরা। বৃহস্পতিবার বিকালে বড় জমায়েত করে সমাবেশও করে বাম দলগুলি। দু’দিনই বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান উপস্থিত ছিলেন। তবে রাত জাগতে পারেননি। যা নিয়ে বৃহস্পতিবার আক্ষেপ শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়।
সিইও-র সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে আলোচনার নির্যাস জমায়েতের সামনে বলছিলেন বিমান। একেবারে শেষে তিনি জানান, ৫৫ বছর পরে তিনি রাতের কোনও কর্মসূচিতে থাকতে পারলেন না। বিমান বলেন, ‘‘১৯৭১ সাল থেকে কলকাতায় যত নৈশকালীন অভিযান হয়েছে, সব ক’টিতে আমি ছিলাম। কিন্তু এই প্রথম আমি থাকতে পারলাম না।’’ ৮৫ বছরের বিমান জানিয়েছেন, তাঁর চিকিৎসকের নির্দেশেই তিনি বুধবার রাতে রাস্তায় রাত জাগতে পারেননি। ফিরে যেতে হয়েছিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএম রাজ্য দফতরে, তাঁর আস্তানায়।
বছর সাতেক আগেও রানি রাসমণি রোডে সিপিএমের সারা রাতের একটি কর্মসূচিতে বিমান শুধু নিজে জাগেননি, হাজির থাকা কর্মীদের কানের কাছে লাঠির খোঁচা দিয়ে জাগিয়ে তুলেছিলেন। বাঁকুড়ার এক যুবকর্মীর কার্যত ভূত দেখার মতো অবস্থা হয়েছিল। গ্রামের মানুষ। এসেছিলেন দলের কর্মসূচিতে রাত জাগতে। পেতে রাখা চৌকিতে গা এলিয়েছিলেন। লেগে গিয়েছিল চোখও। কিন্তু কানের কাছে মৃদু খোঁচা খেয়ে ঘুম ভেঙে উঠে বসতেই দেখেন বিমান দাঁড়িয়ে!
দীর্ঘ পদযাত্রার জন্য সিপিএমের অন্দরে বিমান ‘হন্টনের হেডমাস্টার’ বলে খ্যাত। তবে তাঁর যে বয়স বাড়ছে তা বোঝা গিয়েছিল ২০২২ সালে। ধর্মীয় অশান্তির বিরুদ্ধে বামেদের ডাকা শান্তি মিছিল হয়েছিল হুগলির কোন্নগর বাটা মোড় থেকে উত্তরপাড়া গৌরী স্টপেজ পর্যন্ত। কিন্তু আধঘণ্টা হেঁটে হুডখোলা গাড়িতে উঠে পড়েছিলেন বিমান। তার পর সভায় বলেছিলেন, ‘‘আমি আজকে ৩৪ মিনিট হেঁটেই রিটায়ার নিয়েছি।’’ গত বছর অসুস্থতার কারণে বিমানকে হাসপাতালেও ভর্তি করানো হয়েছিল। আপাতত চিকিৎসকদের কড়া অনুশাসনে থাকতে হচ্ছে প্রবীণ সিপিএম নেতাকে।