—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
গ্যাসের সঙ্কটের মধ্যে আপাতত একটি মাত্র পদ রান্না করে স্কুলের মিড-ডে মিল সামাল দেওয়া গেলেও এই সমস্যা দীর্ঘ দিন চললে কী হবে, তা নিয়ে চিন্তায় শিক্ষকেরা। সমস্যার সুরাহায় শিক্ষা দফতর প্রস্তাব দিয়েছিল, বড় বড় ডিজ়েল স্টোভ কিনে মিড-ডে মিলের কমিউনিটি রান্নাঘর সামলানো হোক। যে সব স্কুলের নিজস্ব রান্নাঘর আছে, তাদের কেউ কেউ ডিজ়েল স্টোভ কেনার পরিকল্পনা করেওছিল। অথচ, তারও জোগানে টান পড়েছে।কলকাতা সমগ্র শিক্ষা মিশনের এক কর্তা বলেন, ‘‘বড়বাজারে ডিজ়েল স্টোভ পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ রেস্তরাঁ সেই স্টোভ কিনে নিয়ে গিয়েছে। কোন কমিউনিটি রান্নাঘরে কত গ্যাস লাগে, তার হিসাব বিকাশ ভবন চেয়ে পাঠিয়েছে। মিড-ডে মিল যাতে কোনও ভাবেই না আটকায়, তা শিক্ষা দফতর দেখছে।’’
তবে, শিক্ষা দফতরের তরফে এই আশ্বাস দেওয়া হলেও যে সব স্কুলের নিজস্ব রান্নাঘর রয়েছে,তাদেরও মজুত থাকা গ্যাস শেষের পথে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা ডিজ়েল স্টোভ কিনে রাখতে চাইছেন। কিন্তু, সেটাও এখন মিলছে না। বড়বাজারের এক ডিজ়েল স্টোভ বিক্রেতা ঋষভ দোশি বললেন, ‘‘গত কয়েক দিনে ডিজ়েল স্টোভের চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে। বিভিন্ন রেস্তরাঁ ওই স্টোভ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি স্কুল ডিজ়েল স্টোভের খোঁজ করলেও আমরা সবাইকে তা সরবরাহ করতে পারছি না।’’
বাঘা যতীন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শম্পা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলের নিজস্ব রান্নাঘরে সাড়ে পাঁচশো পড়ুয়ার মিড-ডে মিল রান্না হয়। সপ্তাহে একটি করে গ্যাস লাগে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য মজুত রাখা গ্যাস সিলিন্ডার প্রায় শেষের পথে। ডিজ়েল স্টোভ পাইনি। কাল কী হবে, জানি না।’’ কেষ্টপুরের দেশপ্রিয় বালিকা বিদ্যামন্দিরের প্রধান শিক্ষিকা নাজ়রিন নাহার জানালেন, তাঁদের স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা এক হাজারের বেশি। তিনি বলেন, ‘‘শনিবার গ্যাস না পেলে মিড-ডে মিল খাওয়াতে পারব না ছাত্রীদের। এই পরিস্থিতিতে স্কুলের জন্য ডিজ়েল স্টোভ কিনে রাখা যায়। কিন্তু, সেই স্টোভের দাম অনেক। এত দাম দিয়ে ডিজ়েল স্টোভ কেনা সম্ভব নয়।’’
ঠাকুরপুকুরের কলাগাছিয়া কৈলাস কামিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের (উচ্চ মাধ্যমিক) প্রধান শিক্ষিকা চিত্রিতা মজুমদার বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলের নিজস্ব রান্নাঘরে পড়ুয়াদের রান্না হয়। এখনও পর্যন্ত কোনও অসুবিধা না হলেও মজুত থাকা গ্যাস প্রায় শেষ।’’ নারায়ণ দাস বাঙুর মেমোরিয়াল মাল্টিপারপাসের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া বলেন, ‘‘আমাদের হাজারের উপরে পড়ুয়া। দু’-তিন দিন পর পর গ্যাস লাগে। তা প্রয়োজন মতো পাচ্ছি না। পরিস্থিতি এমন যে, এক পরিচিত ব্যক্তির বাড়িতে মজুত থাকা গ্যাস এনে এক দিন চালাতেহয়েছে। ডিজ়েল স্টোভের খোঁজ করেছি। কিন্তু শুনেছি, তারও জোগান কম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী সপ্তাহে কী হবে, জানি না।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে