Mamata Banerjee Humayun Kabir

মসজিদ বানিয়ে ভেদাভেদ করা হচ্ছে মুসলিমদের মধ্যে, ইমামের নিন্দা মমতার সামনে, নিশানায় হুমায়ুনের বাবরি তৈরির প্রকল্প

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় করসেবকেরা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল বাবরি মসজিদ। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে সেই ৬ ডিসেম্বরেই মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন হুমায়ুন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:১২
Share:

(বাঁ দিক থেকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ইমাম আব্দুল হামিদ এবং হুমায়ুন কবীর। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কোনও ব্যক্তির নাম করলেন না। উল্লেখ করলেন না মসজিদের পোশাকি নামেরও। কিন্তু মসজিদ নির্মাণের প্রসঙ্গ তুলে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই সরব হলেন কলকাতার ষোলআনা মসজিদের ইমাম আব্দুল হামিদ। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, নিলম্বিত তৃণমূল বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির সভাপতি হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যে বাবরি মসজিদ নির্মাণ শুরু করেছেন, ইমাম তাকেই নিশানা করতে চেয়েছেন।

Advertisement

বৃহস্পতিবার কলকাতা পুরসভা আয়োজিত ইফতারে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। সেখানেই ষোলআনা মসজিদের ইমাম সরব হন মসজিদ নির্মাণ নিয়ে। বক্তৃতা করতে গিয়ে ইমাম বলেন, ‘‘আফসোস হচ্ছে, মসজিদ বানিয়ে মুসলিমদের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। এটা ঠিক হচ্ছে না। এর নিন্দা করি।’’ তিনি এ-ও দাবি করেছেন, ওই মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে কোনও ইমাম জড়িত নন।

তাঁর নাম না-করলেও হমায়ুন এর জবাব দিয়েছেন। ভরতপুরের বিধায়ক বলেন, ‘‘এই ধরনের ইমামদের কোনও সার্টিফিকেট হুমায়ুন কবীরের প্রয়োজন নেই। কিছু ইমাম আছেন, যাঁরা সামান্য ইমামভাতা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদলেহন করেন। তাঁরা কী বললেন, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।’’

Advertisement

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় করসেবকেরা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল বাবরি মসজিদ। দীর্ঘ মামলা-মোকদ্দমার পরে সুপ্রিম কোর্ট ওই জায়গায় রামমন্দির নির্মাণের নির্দেশ দেয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তার দ্বারোদ্ঘাটনও হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটের আগে সেই ৬ ডিসেম্বরেই মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন হুমায়ুন। অনেকেই মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৈরি হওয়া মেরুকরণের পরিবেশকে আরও গাঢ় করে তুলতে পারে হুমায়ুনের বাবরি মসজিদ নির্মাণের প্রকল্প।

গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে রাজ্য রাজনীতিতে সংখ্যালঘু ভোটের একচেটিয়া সমর্থন রয়েছে মমতা তথা তৃণমূলের দিকে। বিধানসভা ভোটের আগে হুমায়ুনের নতুন দল তৈরি এবং মসজিদ নির্মাণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনাও রয়েছে। যে আলোচনার মূল নির্যাস— তৃণমূলের দিকে থাকা সংখ্যালঘুদের অটুট সমর্থনে ফাটল ধরবে কি না। সেই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ষোলআনা মসজিদের ইমামের বক্তব্য ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। শুধু মসজিদের কথাই বলেননি ষোলআনা মসজিদের ইমাম। তাঁর বক্তব্য, মমতার শাসনে শুধু সংখ্যালঘু নয়, সব ধর্মের মানুষের জন্য যা উন্নয়ন হয়েছে, তা অতীতে দেখা যায়নি। ইমাম হামিদ বলেন, ‘‘ইমামভাতা থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি পশ্চিমবঙ্গের থেকে দেখে অন্য রাজ্য বাস্তবায়িত করেছে।’’ মমতার জমানায় কলকাতার ইসলামিয়া হাসপাতালের উন্নয়নের প্রসঙ্গও তোলেন ইমাম হামিদ। তিনি বলেন, ‘‘আগে ইসলামিয়া হাসপাতালে জীবন্ত মানুষ এলে মৃত হয়ে বার হতেন। কিন্তু এখন ছবিটাই বদলে গিয়েছে। সেখানে এখন বিহার, ঝাড়খণ্ড, ত্রিপুরা, মণিপুর থেকেও রোগীরা আসছেন।’’

বৃহস্পতিবারের ইফতার কর্মসূচিতে ইমামেরা ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ, রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কলকাতার দুই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মালা রায়, চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যমন্ত্রীর ভ্রাতৃবধূ তথা কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বুধবারই ভবানীপুরে জৈন ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মমতা। সেখান থেকেই একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার মধ্যে ছিল ফুরফুরা শরিফে ১০০ বেডের হাসপাতালও। বৃহস্পতিবারের ইফতারে ফুরফুরার ওই হাসপাতালের জন্যও ইমামেরা ধন্যবাদ জানান মমতাকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement