মহিলা বন্দিদের জন্য উন্মুক্ত সংশোধনাগার নির্মাণে উদ্যোগী কারা দফতর। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মহিলা বন্দিদের জন্য আলাদা উন্মুক্ত সংশোধনাগার (ওপেন জেল) তৈরির বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য কারা দফতর। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ইতিমধ্যেই নবান্নে পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। প্রাথমিক ভাবে বীরভূমের সিউড়িতে একটি জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি সম্ভাব্য জায়গা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কারা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই উন্মুক্ত কারাগারের সুরক্ষা ব্যবস্থা ও পরিচালন পদ্ধতির রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। এখানে প্রথম তিন মাস বন্দিদের সমস্ত খরচ বহন করবেন কারা কর্তৃপক্ষ। এর পর নিজেদের উপার্জনের মাধ্যমে দৈনন্দিন খরচ চালাতে হবে তাঁদের। সেই লক্ষ্যেই বন্দিদের বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রান্না, বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি, আচার প্রস্তুত, প্যাকেটজাত খাদ্য সামগ্রী তৈরি— এ সব বিষয়ে দক্ষ করে তোলা হবে তাঁদের। ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিসের ক্যান্টিনে তাঁদের তৈরি খাবার সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করবেন আধিকারিকেরা।
উল্লেখ্য, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দিদের জন্য রাজ্যে ইতিমধ্যেই তিনটি মুক্ত সংশোধনাগার চালু রয়েছে। সেখানে থাকা দণ্ডাদেশপ্রাপ্তদের কেউ টোটো চালাচ্ছেন, কেউ ফুটবল প্রশিক্ষক হিসাবে কাজ করছেন, আবার কেউ ছোট ব্যবসা করছেন। দিনের শেষে তাঁরা সংশোধনাগারেই ফিরে আসেন। সাধারণত ১২ বছরের বেশি সাজা ভোগ করা এবং ভাল আচরণ ও পরিষ্কার রেকর্ড থাকা বন্দিদেরই সেখানে পাঠানো হয়। রাজ্যে মহিলাদের জন্য আলাদা জেল থাকলেও বহু বন্দি দীর্ঘদিন চার দেওয়ালের মধ্যে কাটাচ্ছেন। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে অনেকের মধ্যেই অবসাদ বাড়ছে বলে মনে করছে কারা দফতর। সেই প্রেক্ষিতেই তাঁদের পুনর্বাসন ও মানসিক সুস্থতার কথা ভেবে উন্মুক্ত সংশোধনাগার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নবান্নের অনুমোদন মিললেই কাজ শুরু হবে বলে সূত্রের দাবি।