Aniket Mahato Resignation

জুনিয়র ডক্টর্‌স ফ্রন্টের পদ থেকে ইস্তফা অনিকেত মাহাতোর! চিঠিতে কারণও ব্যাখ্যা করলেন আরজি কর আন্দোলনের ‘মুখ’

আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টর্‌স ফ্রন্টের বোর্ড অফ ট্রাস্ট থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বছরের প্রথম দিনেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে এসেছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:০৪
Share:

আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতোর ইস্তফার চিঠি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টর্‌স ফ্রন্টের বোর্ড অফ ট্রাস্ট থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ট্রাস্টের সভাপতি পদে ছিলেন তিনি। বছরের প্রথম দিনেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে এসেছে। বুধবার বোর্ডকে লেখা চিঠিতে তিনি ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে ‘বেদনাদায়ক’ বলেছেন অনিকেত।

Advertisement

কেন আচমকা পদ ছাড়লেন? অনিকেতের চিঠিতে জুনিয়র ডক্টর্‌স ফ্রন্টের এগ্‌জ়িকিউটিভ কমিটি তৈরি নিয়ে ট্রাস্টের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সংঘাতের ইঙ্গিত রয়েছে। অনিকেতের অভিযোগ, আইনি পরামর্শ উপেক্ষা করে ট্রাস্টের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক স্থির না করেই কমিটি তৈরি করা হচ্ছে। একে ‘অগণতান্ত্রিক’ এবং নির্যাতিতার জন্য ‘ন্যায়বিচারের দাবি আন্দোলনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন অনিকেত। দাবি, তিনি বার বার নিজের আপত্তির কথা ট্রাস্টকে জানালেও কেউ কর্ণপাত করেননি।

সূত্রের খবর, জুনিয়র ডক্টর্‌স ফ্রন্টের এগ্‌জ়িকিউটিভ কমিটিতে ভোটাভুটির মাধ্যমে সম্প্রতি নতুন করে ৩৭ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। ট্রাস্ট এবং কমিটির মধ্যে দায়িত্ববণ্টন নিয়ে সংঘাতের সূত্রপাত। পদত্যাগের পর এ বিষয়ে খুব বেশি মন্তব্য করতে চাননি অনিকেত। আনন্দবাজার ডট কম-কে তিনি বলেন, ‘‘কমিটির ভোটাভুটির আগেই আমি বেরিয়ে এসেছি। তাই এই কমিটি নিয়ে কিছু বলা আমার উচিত হবে না।’’

Advertisement

আরজি কর পর্বের পর অনিকেত-সহ আন্দোলনের প্রথম সারির কয়েক জন জুনিয়র ডাক্তার পোস্টিং নিয়ে সমস্যায় পড়েন। অভিযোগ, প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ করে সরকার তাঁদের কাঙ্ক্ষিত এবং ন্যায্য জায়গার পরিবর্তে দূরে পোস্টিং দিয়েছিল। এ নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটেন অনিকেতরা। তিনি ছাড়াও সমস্যায় পড়েছিলেন দেবাশিস হালদার এবং আসফাকুল্লা নাইয়া। পরে ফ্রন্টের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে দেবাশিস এবং আসফাকুল্লা পরিবর্তিত পোস্টিংয়েই কাজে যোগ দেন। কিন্তু অনিকেত লড়াই চালিয়ে যান। কলকাতা হাই কোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ও তাঁর পক্ষে গিয়েছে। আদালত আরজি কর হাসপাতালেই অনিকেতের পোস্টিংয়ের নির্দেশ দিয়েছিল। বলা হয়েছিল, দু’সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে কাজে যোগ দিতে হবে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁকে কাজে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি বলে অনিকেতের অভিযোগ। ইস্তফার চিঠিতেও তিনি সে কথা উল্লেখ করেছেন। মাথা নত না করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন।

ফ্রন্ট থেকে পদত্যাগের পর এই লড়াইয়ে কি আগামী দিনে অনিকেত বাকিদের পাশে পাবেন? তাঁর কথায়, ‘‘ফ্রন্টকে তো সাধারণ মানুষই টাকা দিয়েছে। তারা কী করবে, সেটা ফ্রন্টকেই ঠিক করতে হবে। আমরা সকলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছি। আমার কারও উপর কোনও ক্ষোভ নেই।’’

২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের পর পথে নেমেছিলেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। অনিকেত সেই আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন। এমনকি, ন্যায়বিচারের দাবি ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সংস্কারের দাবিতে অনশনও করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি বৈঠকে অনিকেতকে সরাসরি প্রশ্ন করতেও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনের সময় ফ্রন্টের অনেকের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই তাঁর মতপার্থক্য হয়েছে। ইস্তফার চিঠিতে সে কথা উল্লেখ করে অনিকেতের বক্তব্য, ‘‘আন্দোলন চলাকালীন কর্মপন্থা নিয়ে আপনাদের সঙ্গে আমার মাঝে মাঝে মতপার্থক্য হয়েছে। তবু ঐক্য বজায় রেখে আমার সাধ্যমতো ভূমিকা পালন করে গিয়েছি।’’ শেষ পর্যন্ত কোনও সংঘাত মনে রাখতে চান না অনিকেত। আরজি কর-কাণ্ডে বিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেই জানিয়েছেন।

অনিকেতের পদত্যাগ এবং সমাজমাধ্যমে ইস্তফার চিঠি প্রকাশ নিয় অসন্তোষ প্রকাশ করেন আন্দোলনের অন্যতম ‘মুখ’ দেবাশিস। তিনি জানান, কমিটি তৈরির আগে তা নিয়ে অনিকেত আপত্তি জানিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, আগে আইনি লেখাপড়া হবে, তার পর কমিটির নির্বাচন হবে। কিন্তু ফ্রন্টের অধিকাংশ সদস্যই আগে ভোটাভুটির পক্ষে মত জানান। ফলে ভোটাভুটির প্রক্রিয়া শুরু হয়। অনিকেত নিজে ভোটে দাঁড়াননি। তাঁর সঙ্গে আলোচনা চলছিল। তার মাঝেই আচমকা তিনি ইস্তফার চিঠি দেন বুধবার। তা নিয়ে বৃহস্পতিবার জিবি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। তার আগেই ফেসবুকে চিঠি পোস্ট হয়ে গিয়েছে। দেবাশিসের কথায়, ‘‘ফেসবুক পোস্ট অনিকেতের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। যে ভাবে বিষয়টা সামনে এল, তাতে এটাকে আমাদের মধ্যে ভাঙন বলে মনে হচ্ছে। কেন ও এটা করল, জানি না। এর প্রভাব সাধারণ মানুষের উপরেও পড়বে। আমি ওর জায়গায় থাকলে এ ভাবে পোস্ট করতাম না। ওর সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলবে। আশা করছি আগামী দিনে আমরা একসঙ্গেই ল়ড়াইয়ে থাকব।’’ অনিকেতের পদত্যাগপত্রের কোনও মানে হয় না বলেও মনে করছেন দেবাশিস। তাঁর মতে, ‘‘ট্রাস্ট থেকে বেরোনো মানে জেডিএফ থেকে বেরিয়ে যাওয়া নয়। কথা বলে এই সমস্যা মিটিয়ে নেওয়া সম্ভব।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement