BLO Death In West Bengal

স্কুল থেকে উদ্ধার প্রধানশিক্ষকের দেহ! রাজ্যে অষ্টম বিএলও-র মৃত্যু, কাজের চাপকেই দায়ী করল মৃতের পরিবার

স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ার পরেও বাড়ি ফেরেননি প্রধানশিক্ষক। বাড়ির লোকজন খোঁজ করতে গিয়ে স্কুলের একটি ঘরে প্রধানশিক্ষক তথা বিএলও-র ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:১৬
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাজ্যে আরও এক বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও) মারা গেলেন! ঘটনাস্থল মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা। পরিবারের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংযোজন বা এসআইআরের কাজের চাপে আত্মহত্যা করেছেন পেশায় শিক্ষক হামিমুল ইসলাম। রহস্যমৃত্যুর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Advertisement

রানিতলা থানার পাইকমারি চর কৃষ্ণপুর বয়েজ় স্কুলের প্রধানশিক্ষক হামিমুলের বাড়ি ভগবানগোলার আলাইপুরে। শনিবার স্কুলের একটি ক্লাসঘর থেকে প্রধানশিক্ষকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে খবর, হামিমুল খড়িবোনা গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব আলাইপুর বুথের বিএলও হিসাবে কাজ করছিলেন। সপ্তাহের আর পাঁচ দিনের মতো শনিবার সকালেও স্কুলে গিয়েছিলেন। কিন্তু স্কুল ছুটির পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়ি ফেরেননি প্রধানশিক্ষক। পরিবারের সদস্যেরা এখানে-ওখানে খোঁজখবর শুরু করেন। শেষমেশ যে স্কুলে হামিমুল কর্মরত, সেখানে যান। স্কুলের একটি ঘরে হামিমুলকে পাওয়া যায়। তবে মৃত অবস্থায়!

Advertisement

খবর পেয়ে রানিতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। দেহ উদ্ধার করে নসিপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। ঘটনাক্রমে প্রধানশিক্ষক তথা বিএলও-র দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

হামিমুলের দাদা ফরমানুল ইসলামের অভিযোগ, ‘‘গত বেশ কিছু দিন ধরে বিএলও-র কাজ নিয়ে প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিল ভাই। স্কুলের কাজ, তার উপর এসআইআরের কাজের প্রবল চাপে ও আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।’’

পুলিশ জানিয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা চলছে। পরিবারের দাবিও খতিয়ে দেখা হবে।

এ নিয়ে রাজ্যে আট জন বিএলও-র মৃত্যু হল। এঁদের মধ্যে পাঁচ জনই আত্মহত্যা করেছেন। তবে সকলের পরিবারেরই এক দাবি, এসআইআরের কাজের চাপই মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে বিএলওদের। একই অভিযোগ করেছে রাজ্যের শাসকদলও। শনিবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা পঞ্চম চিঠিতে মৃত্যুর ঘটনাগুলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement