তৃণমূলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। —ফাইল চিত্র।
তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ করতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। তা নিয়ে দলের শো কজ়ের জবাবও দিলেন তিনি। সূত্রের খবর, কালীঘাট থেকে অরূপকে শো কজ় করা হয়েছিল। অরূপ তার জবাবে তিন পাতার পাল্টা চিঠি দিয়েছেন। দলের তহবিলে নানা ধরনের তছরুপের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। জানিয়েছেন, তাঁর সই করা চেক কোথায় কী ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা তিনি জানতে পারেননি।
ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে দলের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে চিঠি দিয়েছিলেন অরূপ। তৃণমূলের অন্দরে বিভাজনের কথা জানিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় লেনদেন আপাতত স্থগিত করার আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে তার আগেই কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিল কালীঘাট। তার পরেও কেন তিনি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলেন, জানতে চেয়ে অরূপকে শো কজ় করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। সূত্রের খবর, রবিবার সেই শো কজ়ের জবাব দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী।
তৃণমূল সূত্রে খবর, চিঠিতে অরূপ জানিয়েছেন, কোষাধ্যক্ষ হিসাবে তিনি যে চেকগুলিতে আগাম সই করেছিলেন, সেগুলি কোথায় ব্যবহার হয়েছে, সেই বিষয়ে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি। দলের প্রয়োজনে তিনি আগে থেকে যে সব চেকে সই করে রাখতেন, তা কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, কে সেগুলি ব্যবহার করে টাকা তুলেছেন এবং কত টাকা তোলা হয়েছে, সে বিষয়েও তাঁর কাছে কোনও তথ্য নেই। উল্লেখ্য, গত ৫ জুন দলের অন্দরে কিছু রদবদলের কথা ঘোষণা করে তৃণমূল। তখনই কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে অরূপকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিষ চক্রবর্তীকে। কিন্তু অরূপ ব্যাঙ্কে চিঠি দেন ১২ জুন। সেখানে নিজেকে কোষাধ্যক্ষ বলেই উল্লেখ করেন।
ব্যাঙ্কে অরূপের চিঠি নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও তৃণমূলের তহবিল থেকে লেনদেন বন্ধ করার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছিল। তাঁদের তরফে থানায় চিঠি দেওয়া হয়। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় যে ব্যাঙ্কের শাখায় তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেখানকার থানায় চিঠি দিয়ে জানানো হয়, কোন ব্যাঙ্কে কী অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেই অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ়’ করার দাবি জানান ঋতব্রতেরা। তার পরেই পুলিশও পদক্ষেপ করে। বলা হয়, তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন বন্ধ রাখতে হবে। সেখান থেকে কোনও টাকা তোলা যাবে না। তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্টে ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।