পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে ফুটবল তারকা লিয়োনেল মেসি। শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। — ফাইল চিত্র।
যুবভারতীতে কেলেঙ্কারি ঘিরে বিতর্কের মাঝে ক্রীড়া দফতরের দায়িত্ব ছাড়তে চাইলেন অরূপ বিশ্বাস। ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।
অরূপ ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের পাশাপাশি রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরেরও মন্ত্রী। তবে অব্যাহতি চেয়েছেন শুধু ক্রীড়া দফতর থেকে। ফলে, তাঁর ক্রীড়ামন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফাপত্র যদি শেষ পর্যন্ত গৃহীত হয়, তা-ও মন্ত্রিসভায় থাকবেন অরূপ।
মঙ্গলবার অরূপের ইস্তফাপত্র প্রকাশ্যে এনেছেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তবে চিঠির একেবারে ডান দিকে উপরে উল্লেখ রয়েছে সোমবারের তারিখ (১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫)। কুণাল সমাজমাধ্যমে যে চিঠিটি পোস্ট করেছেন, তার নীচে অরূপের কোনও স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে না। তবে টালিগঞ্জের অরূপ-ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতার বক্তব্য, হাতের লেখা হুবহু মন্ত্রীর মতোই।
মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো অরূপ বিশ্বাসের ইস্তফাপত্র। — নিজস্ব চিত্র।
অরূপ দফতর থেকে ইস্তফা দিতে চাওয়ার পরেই ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নবান্নে তলব করা হয়েছে। দুপুরে তাঁরা সেখানে পৌঁছেও গিয়েছেন।
শনিবার যুবভারতী কেলেঙ্কারির পর থেকেই ফুটবলপ্রেমী জনতার কাঠগড়ায় অরূপ। যদিও ইস্তফার বিষয়ে তিনি ঘনিষ্ঠমহলেও কিছু বলেননি। বরং, তাঁর ঘনিষ্ঠদের অনুমান ছিল মঙ্গলবার এসআইআর-এর খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে যুবভারতীকাণ্ড চাপা পড়ে যাবে। আলোচনার অভিমুখ হয়ে উঠবে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া। কিন্তু দেখা গেল আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্বাচন কমিশন খসড়া তালিকা প্রকাশের আগেই মমতাকে চিঠি লিখে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিতে চাইলেন অরূপ।
যুবভারতীকাণ্ডে প্রাক্তন বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই তদন্ত চলার মধ্যেই মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক রাজীব কুমারকে শনিবারের ঘটনায় শো কজ় করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। শো কজ় করা হয়েছে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুকেশ কুমারকেও। সাসপেন্ড করা হয়েছে বিধাননগরের ডিসি অনীশ সরকারকে। পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নবান্নের এই পদক্ষেপ প্রকাশ্যে আসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অরূপের ইস্তফাপত্রের প্রসঙ্গ সমাজমাধ্যমে জানান তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল। ইস্তফাপত্রের ছবি পোস্ট করে প্রথমে সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “সূত্রের খবর, অনুমোদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।” যদিও পরে সেটি সংশোধন করে নেন কুণাল।
তৃণমূল মুখপাত্র বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজধর্ম পালন করেছেন। যথাযথ তদন্তের ব্যবস্থা করেছেন। সরকার যা ব্যবস্থা নিচ্ছে, জানিয়ে দিয়েছে। সিপিএম জমানায় ১৯৮০ সালের ১৬ অগস্ট ইডেনে ১৬ জনের মৃত্যু বা ১৯৯৬ সালে ইডেন বিশৃঙ্খলা, বাম সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। যদিও এ বার যুবভারতীতে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র থাকার সম্ভাবনা প্রবল, তবু মুখ্যমন্ত্রী যথাযথ তদন্ত করিয়ে রাজধর্ম পালন করেছেন। এটা একমাত্র তিনিই করেন।”