Coronavirus

অশোকের পজ়িটিভ, ফোন করে খোঁজ নিলেন মমতা

নবান্ন সূত্রে খবর, বিধায়কের শারীরিক অবস্থা এখন কেমন, তা নিয়ে খোঁজখবর করেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২০ ০৮:১৫
Share:

অশোক ভট্টাচার্য। নিজস্ব চিত্র

এ বার করোনায় আক্রান্ত হলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান অশোক ভট্টাচার্য। সপ্তাহখানেক ধরে জ্বরে ভুগছেন দেখে মঙ্গলবার চিকিৎসক এমআরআই পরীক্ষা করে বুকে সংক্রমণ পান। ওই দিনই শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে দ্বিতীয় দফায় তাঁর লালারস পরীক্ষা করার পর মাটিগাড়ার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়। পুরসভা এবং পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সেই রিপোর্ট এলে দেখা যায় তিনি করোনা আক্রান্ত। অথচ তিন দিন আগে প্রথম বারের পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ ছিল।

Advertisement

এই খবর পেয়ে অশোকবাবুর স্ত্রী রত্নাদেবীকে ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্ন সূত্রে খবর, বিধায়কের শারীরিক অবস্থা এখন কেমন, তা নিয়ে খোঁজখবর করেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও রকম প্রয়োজনে শিলিগুড়ির প্রশাসন তাঁদের সঙ্গে আছে, রত্নাদেবীকে এই আশ্বাসও দেন তিনি। অশোককে ওই বেসরকারি হাসপাতালেই আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সন্ধ্যার পরে তাঁকে নজরদারির জন্য আইসিইউ-তে নেওয়া হয়।

এদিন অশোকের রিপোর্ট মেলার পর উদ্বেগ ছড়িয়েছে শিলিগুড়ি পুরসভা এবং দলে। এ দিন শিলিগুড়ি পুরসভার তরফে পুর কমিশনার সোনম ওয়াংদি ভুটিয়া জানান, তিন দিন পুরসভার কাজকর্ম বন্ধ রেখে গোটা পুরভবন জীবাণুমুক্ত করা হবে। তবে জরুরি পরিষেবার কাজ চলবে।

Advertisement

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকের সংস্পর্শে আসায় স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে থাকা শঙ্কর ঘোষের মতো প্রশাসক বোর্ডের একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হোম কোয়রান্টিনে থাকার কথা। মেয়রের আপ্ত সহায়ক এবং তাঁর দফতরের একাধিক কর্মীর কোয়রান্টিনে থাকার কথা। পুর কমিশনার, সচিব, বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকরা সম্প্রতি অশোকের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। তবে পুর কমিশনারের দাবি, ১০ জুনের পর থেকে মেয়র নিজেই অসুস্থতার কারণে পুরসভায় আসেননি। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, এর ফলে পুরসভার কাজকর্ম ব্যাহত হতে পারে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভার কর্মী, আধিকারিকদের একাংশ উদ্বেগে রয়েছেন। কয়েক জনের জ্বরের মতো উপসর্গ রয়েছে।

সিপিএমের তরফে জীবেশ সরকার জানান, প্রতিনিয়তই বিধায়কের স্বাস্থ্যের খোঁজ রাখা হচ্ছে। দলের কেউ এর মধ্যে তাঁর সংস্পর্শে যাননি। কেবল গাড়ির চালক nএবং সবসময় তাঁর সঙ্গে যে থাকেন তাঁদের হোম কোয়রান্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। হোম কোয়রান্টিনে থাকতে বলা হয়েছে মেয়রের স্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যদের। পাঁচ দিন পর তাঁদেরও লালারস পরীক্ষা করা হবে।

প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দফতরে যোগাযোগ করে অশোকের খোঁজ নেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। তিনি বলেন, ‘‘মঙ্গলবারও তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে। এ দিন দেখতে নার্সিংহোমে যাব ভেবেছিলাম। চিকিৎসকরা দেখছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি।’’ এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে এসেছেন তৃণমূল কাউন্সিলররা। বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার বলেন, ‘‘প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পুর পরিষেবার কাজে কোথাও সমস্যা হলে সবাই মিলে মেটানো হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement