ক্যানসারকে হারিয়ে মাঠেও জয়

তবে খেলোয়া়ড় সুলভ এই জেদটা হয়তো বাবা-মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছে মেয়ে। কঙ্কনাদেবী ও জয়প্রকাশবাবু দু’জনেই খেলোয়াড়। এক জন ফুটবল খেলেন। অন্য জন অ্যাথলিট। সেই সুবাদেই রেল ইঞ্জিন কারখানায় চাকরি পেয়েছেন তাঁরা। এখনও নানা প্রতিযোগিতায় যোগ দেন। ছোট চিদাগ্নিরও তাই রক্তেই খেলা।

Advertisement

সুশান্ত বণিক

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০১৭ ১৯:০০
Share:

সফল: পদক হাতে চিদাগ্নি। নিজস্ব চিত্র

ক্যানসার ধরা পড়েছিল একরত্তি বয়সে। চিকিৎসা, কেমোথেরাপির যন্ত্রণাতেও হাসি মোছেনি সে মেয়ের। এ বার খেলার মাঠেও উড়ান দিল সে।

Advertisement

চিত্তরঞ্জনের বছর এগারোর চিদাগ্নি পাণ্ডে সম্প্রতি রাশিয়ার মস্কো শহরে এক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ৬০ মিটার দৌড়ে সোনা ও দাবা খেলায় রুপো জিতেছে।

চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার কর্মী কঙ্কনা পাণ্ডে জানান, মেয়ের বয়স যখন এক বছর তখনই পেটে টিউমার ধরা পড়ে। সেখান থেকে লিভারে ক্যানসার। মেয়েকে নিয়ে তাঁরা ছোটেন মুম্বইয়ের ক্যানসার হাসপাতালে। চিদাগ্নির বাবা জয়প্রকাশবাবু জানান, দু’বছরের টানা চিকিৎসা, কেমোথেরাপি, অস্ত্রোপচারে টিউমার বাদ দেওয়া হয়েছে। ক্যানসারের মূল চিকিৎসাও শেষ। এখন অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে চিদাগ্নি। চলছে ক্যানসারের পরবর্তী ধাপের কিছু চিকিৎসা। ওই দম্পতির কথায়, ‘‘মেয়ে গোড়া থেকেই সবটা জানে। আমদের মন খারাপ হয়ে যেত। কিন্তু ও কখনই হার মানেনি।’’

Advertisement

তবে খেলোয়া়ড় সুলভ এই জেদটা হয়তো বাবা-মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছে মেয়ে। কঙ্কনাদেবী ও জয়প্রকাশবাবু দু’জনেই খেলোয়াড়। এক জন ফুটবল খেলেন। অন্য জন অ্যাথলিট। সেই সুবাদেই রেল ইঞ্জিন কারখানায় চাকরি পেয়েছেন তাঁরা। এখনও নানা প্রতিযোগিতায় যোগ দেন। ছোট চিদাগ্নিরও তাই রক্তেই খেলা। ওই দম্পতি জানান, এ মাসের পয়লা থেকে পাঁচ তারিখ পর্যন্ত রাশিয়ার মস্কো শহরে বিশ্বের নানা দেশের ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আসর বসেছিল। সে দেশের একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গত আট বছর ধরে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের উদ্যোগে এ দেশের ক্যানসার আক্রান্ত ১৪ জন শিশুও এ বার যোগ দেয় ওই প্রতিযোগিতায়। ওই দলেরই সদস্য ছিল চিত্তরঞ্জনের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী চিদাগ্নি।

দুই পদক জিতে শহরে ফেরার পরে চিদাগ্নিকে অভিনন্দন জানাতে ছুটে এসেছেন শহরের বহু বিশিষ্ট ব্যাক্তি। সহকর্মীর মেয়ের এই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন চিত্তরঞ্জন রেলইঞ্জিন কারখানার জিএম ভিপি পাঠকও। রেলের জনসংযোগ আধিকারিক মন্তার সিংহ জানিয়েছেন, রেলের তরফেও চিদাগ্নিকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

আর চিদাগ্নি? সে বলে, ‘‘মেডেল পেয়ে খুব খুশি আমি। সুযোগ পেলে আবার যাব।’’ এতটা দৌড়তে কষ্ট হয় না? একগাল হেসে জবাব, ‘‘কেন কষ্ট হবে! আমার নামের মানে অন্তরের আগুন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement