(উপরে) পুলিশের রুট মার্চ। (নীচে) রবিবার বিকেলের বেলডাঙা স্টেশন। —নিজস্ব ছবি।
প্রায় ৪৮ ঘণ্টা অশান্তির পর রবিবারের দুপুরে কিছুটা ছন্দে ফিরল মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ জনপদ। রবিবার দুপুরেও বেলডাঙা এলাকায় রুট মার্চে দেখা গিয়েছে পুলিশকে। নতুন করে অশান্তির খবর মেলেনি। স্বাভাবিক হল ট্রেন চলাচল। দুপুর থেকে বাস চলাচলও ঠিক ভাবে চলছে।
গত শুক্রবার সকাল থেকে পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেওয়া বেলডাঙা। অভিযোগ, পেশায় ফেরিওয়ালা আলাউদ্দিনকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় ভাড়াবাড়িতে। তার পর ভাঙচুর চলেছে পুলিশের গাড়িতে। দু’দিনে জখম হয়েছেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। শনিবার অশান্তিতে ইন্ধন দেওয়া এবং ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করার পর ধীরে ধীরে শান্ত হয়েছে বেলডাঙা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড়ুয়া মোড়, ছাপাখানা মোড়, পাঁচরাহা মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে দফায় দফায় রুট মার্চ করছে পুলিশ। মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ নিজে এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কোথাও কোনও জমায়েত দেখলেই তৎক্ষণাৎ সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্য দিকে, গত দু’দিন ধরে রেল পরিষেবা বিপর্যস্ত ছিল। রবিবার তা-ও স্বাভাবিক হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার আপ ও ডাউন লাইনে সমস্ত ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে চলছে।
একই ছবি ১২ নম্বর জাতীয় সড়কেও। সেখানে এখন কোনও অবরোধ নেই, বিক্ষোভ নেই। যান চলাচল স্বাভাবিক। মানুষজন বাজারে বেরোচ্ছেন। বড়ুয়া মোড় থেকে বহরমপুরগামী অটো এবং ট্রেকার চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তিতে নিত্যযাত্রীরা। বেলডাঙার এসডিপিও উত্তম গড়াই জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও সমাজমাধ্যমের ভিডিও দেখে আরও বেশ কিছু অভিযুক্তকে শনাক্ত করা গিয়েছে। তা ছাড়া আগে যাঁদের ধরা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তিনি বলেন, “দলমত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না।”
বেলডাঙার পাশাপাশি রেজিনগরের বাজারগুলিতে দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং নতুন করে যাতে গোলমাল না-হয়, সে দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। মোড়ে মোড়ে পুলিশি টহলদারি চলছে। জেলা পুলিশ সুপার বলেন, “পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। আমাদের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”