দেখা মিলেছে ‘ভোটু’র।
কলকাতার রবীন্দ্রসদন, দিল্লিতে জেএনইউ চত্বর থেকে শুরু করে বাংলাদেশের শাহবাগ— বিভিন্ন সামাজিক ঘটনা ও বিতর্কের প্রতিবাদে নাগরিক সমাজের মিছিল বারবার দেখা গিয়েছে সাম্প্রতিক কয়েক বছরে। আর সেই জন-অরণ্যের হাতে বারবার উঠে এসেছে একটাই অস্ত্র— মোমবাতি। ভোট ময়দানে এ বার সেই মোমবাতিই ভোটারদের বুথমুখী হওয়ার আবেদন জানাবে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় আয়োজন করা হবে মোমবাতি মিছিলের।
প্রতিবারই বিভিন্ন নির্বাচনের আগে প্রশাসনের তরফে ভোটারদের বুথমুখী করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়। এ বারেও তার অন্যথা হয়নি। ইতিমধ্যেই পথ নাটক, ট্যাবলো, লাউড স্পিকারে প্রচার-সহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই জেলা জুড়ে প্রচারে নামানো হয়েছে ম্যাসকট ‘ভটু’কেও। বাসিন্দারা জানান, জেলার বিভিন্ন প্রান্তেই পোস্টার, ট্যাবলোয় রীতিমতো ভোটের আবেদন নিয়ে হাজির হয়েছে ‘ভটু’ নামের বাঘটি। প্রশাসনের মতে, এ বার সেই সচেতনতা প্রচারেই নতুন সংযোজন— মোমবাতি।
নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সপ্তাহে সোমবার থেকেই মোমবাতি মিছিল জেলার বিভিন্ন ব্লকে ব্লকে ঘুরে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার জন্য মানুষের কাছে আবেদন জানাবে। প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, বিডিও, পঞ্চায়েতকর্মী, পুলিশকর্মী থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান— সকলকেই মোমবাতি হাতে মিছিলে যোগ দিতে দেখা যাবে। জেলাশাসক সৌমিত্র মোহন বলেন, ‘‘প্রতিটি ব্লকে মহকুমাশাসক ও ব্লক প্রশাসনকে ভোটারদের সচেতন করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ করার জন্য বলা হয়েছে।’’ তারই অঙ্গ হিসেবে এই মোমবাতি মিছিল করার পরিকল্পনা করা হয় বলে খবর।
প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, বুথে ভোটার টানতে এমন পরিকল্পনার কথা প্রথম মাথায় আসে মন্তেশ্বরের বিডিও শাশ্বত দাঁ’র। তাঁর আশা, ‘‘এই মিছিলের মাধ্যমে ভোটারদের সচেতন করা যাবে বলেই মনে হয়।’’ সোমবার মন্তেশ্বর থেকেই শুরু হবে মোমবাতি মিছিল। জেলা নির্বাচক দফতরের আধিকারিক দীপ্তার্ক বসুর আশা, ‘‘মন্তেশ্বরে মোমবাতি মিছিলকে মডেল করেই জেলার বিভিন্ন ব্লকে এমন মিছিল করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হবে।’’