West Bengal Assembly Election 2026

ক্ষয় ঠেকাতে সিপিএমের ভাবনায় বদল

দুর্গাপুর পশ্চিমে ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বিশ্বনাথ পাড়িয়াল পান ১,০৮,৫৩৩ ভোট (৫৪.৪ শতাংশ)।

সুব্রত সীট

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪১
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এক সময় দুর্গাপুরের দু’টি বিধানসভা কেন্দ্র— দুর্গাপুর পূর্ব ও পশ্চিম ছিল বামেদের দখলে। কিন্তু যত দিন গিয়েছে, তত ক্ষয় হয়েছে। পরিসংখ্যান দেখে মনে করছেন অনেকে। তবে এ বার পরিকল্পনায় বদল হচ্ছে। এতে পরিস্থিতি পাল্টাতে পারে বলে মনে করছেন সিপিএম নেতৃত্ব।

দুর্গাপুর পূর্বে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস সমর্থিত সিপিএম প্রার্থী সন্তোষ দেবরায় পান ৮৪,২০০ ভোট (৪৪.১৯ শতাংশ)। তৃণমূল প্রার্থী পান ৭৫,০৬৯ ভোট। ২০১৯-এ লোকসভা নির্বাচনে বামেদের প্রাপ্ত ভোট ছিল ২৮,২৯৭। বিজেপি ও তৃণমূল পেয়েছিল যথাক্রমে ৯০,৪৫৫ ও ৬৩,৮৬৪। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রদীপ মজুমদার পান ৭৯,৩০৩ ভোট। বিজেপির দীপ্তাংশু চৌধুরী পান ৭৫,৫৫৭ ভোট। সেখানে সিপিএমের আভাস রায়চৌধুরী পেয়েছিলেন ২৯,০৬৩ ভোট (১৫ শতাংশ)। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বামেদের ভোট কমে হয় আরও প্রায় পাঁচ হাজার। বামেরা পায় ২৪,৬৬৯ ভোট (১৪.৭২ শতাংশ)। সেখানে বিজেপি ও তৃণমূল পায় যথাক্রমে ৮৩,৬৯৭ ও ৮৫,৩৯০ ভোট। অর্থাৎ, আট বছরে এই কেন্দ্রে বামেদের ভোট কমেছে গড়ে ৩০ শতাংশের বেশি।

দুর্গাপুর পশ্চিমে ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বিশ্বনাথ পাড়িয়াল পান ১,০৮,৫৩৩ ভোট (৫৪.৪ শতাংশ)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত, এর মধ্যে মাত্র ৩-৪ শতাংশ কংগ্রেসের ভোট ছিল। তৃণমূল প্রার্থীকে ৪৪,৮২৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে বামেদের প্রাপ্ত ভোট ছিল ২২,০১১। বিজেপি ও তৃণমূল পেয়েছিল যথাক্রমে ১,০৯,১৫৩ এবং ৫৯,৬৪২ ভোট। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে বিজেপির লক্ষ্মণ ঘোড়ুই পান ৯১,১৮৬ ভোট। তৃণমূলের হয়ে বিশ্বনাথ পাড়িয়াল পান ৭৬,৫২২ ভোট। বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী দেবেশ চক্রবর্তীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ১৮,০৩০ (৯.১৬ শতাংশ)। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বামেদের প্রাপ্ত ভোট ১৮,১৪০ (১১ শতাংশ)। বিজেপি ও তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ছিল যথাক্রমে ৯৭,১১২ ও ৮৫,৩৩০ ভোট। অর্থাৎ, আট বছরে এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের ভোট বাদ দিলে বামেদের ভোট কমেছে গড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ।

সিপিএম কর্মীদের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলিতে তাঁদের প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছিল শিল্প ও কর্মসংস্থান, দুর্নীতি। লক্ষ্মীর ভান্ডার-সহ তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পকে কটাক্ষ করায় সাধারণ মানুষ ভাল ভাবে নেননি। আবার ভরসা না পাওয়ায় বিজেপিকে হারাতে সংখ্যালঘুদের অধিকাংশ ভোট গিয়েছে তৃণমূলে। তবে তাঁদের আশা, এ বারের ভোটে পরিস্থিতি বদলাবে। তাঁদের মতে, তৃণমূল সরকারের সামাজিক প্রকল্পগুলি নিয়ে নেতৃত্বের বিশ্লেষণ বদলাতে শুরু করেছে।

সম্প্রতি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “ক্ষমতায় এলে আমরা এর থেকে (লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্পের ভাতা) অনেক বেশি দিতে পারব। কারণ, কাটমানি ও দুর্নীতির টাকা বাঁচালেই কোষাগারে টান পড়বে না। এ ছাড়া, এ বার প্রথম রাজ্য স্তরের ইস্তাহারের পাশাপাশি জেলা ও বিধানসভা ভিত্তিক আলাদা ইস্তাহার তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে স্থানীয় বিষয়, স্থানীয় সমস্যা প্রাধান্য পায়।” দলের জেলা কমিটির সদস্য সিদ্ধার্থ বসু বলেন, “প্রতিটি এলাকায় ‘পাড়া বৈঠক’ করছি। কর্মসংস্থান নেই। শ্রমিকেরা বিজেপি, তৃণমূলের কাজে বিরক্ত। আশা করছি, ভোটবাক্সে এর ফল মিলবে।” তবে তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন বলেন, “গায়ের জোরে ৩৪ বছর সরকারে টিকে ছিল সিপিএম। সেখানে তৃণমূলের মূল ভিত্তি, সাধারণ মানুষের আস্থা। তাই পরিস্থিতি বদলাবে না।” দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের দাবি, “বাংলার মানুষ কোনও ভাবেই সিপিএমের অপশাসন ফিরিয়ে আনবেন না।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন