Kolkata Police Initiatives

রাতে মহিলাদের জন্য ‘পিঙ্ক বুথ’ খুলবে কলকাতার মোড়ে মোড়ে, ঘুরবে মহিলা পুলিশের বিশেষ দল, ঘোষণা মমতার

কলকাতায় নারীসুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুলিশের নতুন দু’টি উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সন্ধ্যা থেকেই শহরে বসছে ‘পিঙ্ক বুথ’। সঙ্গে থাকছে মহিলা পুলিশের বিশেষ টহলদারি বাহিনীও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৩
Share:

মহিলা পুলিশ দিয়েই কলকাতায় মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

নারীসুরক্ষা নিশ্চিত করতে শহরে দু’টি নতুন প্রক্রিয়া চালু করছে কলকাতা পুলিশ। ‘পিঙ্ক বুথ’ এবং ‘শাইনিং’ নামের ওই দুই উদ্যোগের কথা শনিবার সকালে নিজেই ঘোষণা করলেন পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সন্ধ্যা থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলির মোড়ে মোড়ে খুলবে ‘পিঙ্ক বুথ’। মহিলা পুলিশ আধিকারিকেরা সেখানে থাকবেন এবং মহিলাদের সমস্যার কথা শুনবেন। এ ছাড়া, মধ্যরাত পর্যন্ত রাস্তায় থাকবে মহিলা পুলিশের টহলদারি বাহিনী ‘মোবাইল প্যাট্রল টিম’।

Advertisement

পুলিশের এই উদ্যোগের কথা ব্যাখ্যা করে মমতা সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘শহরে মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কলকাতা পুলিশ দু’টি নতুন প্রকল্প চালু করছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়গুলিতে বসছে ‘পিঙ্ক বুথ’। এগুলি মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত হবে এবং শনিবার থেকেই প্রতি দিন সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চালু থাকবে। শহরে আমার বোনেরা যে কোনও সাহায্যের জন্য ‘পিঙ্ক বুথ’-এর মাধ্যমে মহিলা অফিসারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন।’’

মহিলা অফিসারদের টহলদারি বাহিনীগুলির নামকরণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। নাম রাখা হয়েছে ‘শাইনিং’ (যার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় উজ্জ্বল বা দীপ্তিমান)। মমতা লিখেছেন, ‘‘শনিবার রাত থেকে বিশেষ মোবাইল প্যাট্রল টিম ‘শাইনিং’ শহরের রাস্তায় ঘুরবে। রাত ৮টা থেকে ২টো পর্যন্ত তারা রাস্তায় থাকবে।’’ এই বিশেষ টহলদারি বাহিনীও মহিলা অফিসারেরা পরিচালনা করবেন। ইএম বাইপাস-সহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় টহলদারি চলবে। রাতে কর্মরত মহিলাদের কথা ভেবে এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন মমতা। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘‘গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে কলকাতা দেশের সবচেয়ে নিরাপদ শহরের তকমা পেয়ে আসছে। নতুন উদ্যোগগুলি সেই অবস্থানকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।’’

Advertisement

উল্লেখ্য, সদ্য কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদে বদল করেছেন মমতা। মনোজ বর্মার পরিবর্তে সিপি করা হয়েছে আইপিএস সুপ্রতিম সরকারকে। শহরের রাস্তাঘাটে তাঁর বাড়তি তৎপরতা গত কয়েক সপ্তাহে বিশেষ ভাবে চোখে পড়েছে। রাতে নাকা চেকিং বেড়েছে। প্রায়ই নাকা চেকিং পরিদর্শন করতে বিভিন্ন মোড়ে হাজির হয়েছেন সিপি নিজে। কখনও রাতে ছদ্মবেশে হাজির হয়েছেন থানায়। পুলিশকে রাস্তায় থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। নারীদের সুরক্ষাতেও জোর দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মহিলাদের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে কলকাতা পুলিশের নতুন দুই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করলেন মমতা।

শনিবার শ্যামবাজারে ‘পিঙ্ক বুথ’-এর উদ্বোধন করেছেন সিপি স্বয়ং। তিনি বলেন, ‘‘নারী নিরাপত্তা কলকাতা পুলিশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কর্মরত মহিলা, যাঁরা বেশি রাতে বাড়ি ফেরেন, তাঁদের যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা তা মাথায় রেখে এই উদ্যোগ। আপাতত শহরের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ‘পিঙ্ক বুথ’ খুলেছে— শ্যামবাজার, কাঁকুরগাছি, উল্টোডাঙা হাডকো মোড়, গড়িয়াহাট এবং বেহালা চৌরাস্তা। আগামী দিনে সংখ্যাটা আরও বাড়বে। এখানে আমাদের মহিলা কর্মীরা বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত থাকবেন। প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী, ফোন, সিসিটিভি, মহিলা কর্মীদের পোশাক পরিবর্তনের জায়গা-সহ সব সুবিধা এখানে আছে। রয়েছে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক তথ্য যেমন থানার নম্বর, হাসপাতালের খোঁজ ইত্যাদি। আমাদের মনে হয়েছে, মহিলারা মহিলাদের কাছে দ্বিধাহীন ভাবে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পারবেন।’’ দ্বিতীয় উদ্যোগ প্রসঙ্গে সিপি বলেন, ‘‘পাঁচটি গাড়ি রাস্তায় থাকবে। নাম শাইনিং মোবাইল। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় এই গাড়ি টহল দেবে। মহিলারা বাড়ি ফেরার সময় যে সব রাস্তা ব্যবহার করেন, প্রাথমিক ভাবে সেই রাস্তায় গাড়ি বসছে রাত ৮টা থেকে ২টো অবধি। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী এই সময় পাল্টাতেও পারে। রাস্তায় উর্দিধারী মহিলাদের দেখলে মহিলারা আশ্বস্ত হবেন। শীঘ্রই সংখ্যা আরও বাড়বে, যাতে পুরো শহরে এর ব্যাপ্তি নিশ্চিত করা যায়।’’

দেশের বহু রাজ্যেই নারী নিরাপত্তার করুণ চিত্র বার বার প্রকাশ্যে আসে। বিশেষত রাতে মেয়েদের একা চলাফেরা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ সর্বত্র। রাজধানী দিল্লিও তার মধ্যে অন্যতম। উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে বারংবার নানা জায়গায় নানা ঘটনা খবরে আসে। কলকাতা তুলনামূলক ভাবে মেয়েদের জন্য ‘নিরাপদ’ শহর বলে অনেকে মনে করলেও, আরজি করের ঘটনা জোরালো সঙ্কেত দিয়েছিল সরকারের কাছে। সেই প্রেক্ষাপটে কলকাতায় নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত দু’টি সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement