—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
বামফ্রন্টের অন্দরে আসন-রফার জট এখনও কাটেনি। তবে দলের নিচুতলার মনোভাবকে গুরুত্ব দিয়ে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব বর্ধমানে বেশি আসনে লড়তে চায়ছে সিপিএম। তবে, বামফ্রন্টের অন্য শরিকরা এখনও ‘দর কষাকষি’ করছেন। আবার ‘ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টও’ (আইএসএফ) পূর্ব বর্ধমানে সিপিএমের সঙ্গে আসন-সমঝোতা করার ইচ্ছা জানিয়েছে। সিপিএমের দাবি, বামফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে আসন সমঝোতা হওয়ার পরে আইএসএফের সঙ্গে আলোচনা করবে পূর্ব বর্ধমান জেলা সিপিএম। এ দিকে, আসন সমঝোতা হয়নি বলে দেওয়াল দখল করে প্রতীকও আঁকতে পারছে না সিপিএম।
গত বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে দু’টি আসন (গলসি ও জামালপুর) শরিকদের জন্য ছেড়েছিল সিপিএম। কংগ্রেসকে দেওয়া হয়েছিল কাটোয়া ও পূর্বস্থলী দক্ষিণ। অর্থাৎ জেলায় ১২টি আসনে ছিল কাস্তে-হাতুড়ি-তারা। এ বার কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নেই। ফলে, বাড়তি আসনে লড়ার সুযোগ রয়েছে সিপিএমের। আবার বামফ্রন্টের বৈঠকে পূর্ব বর্ধমানের ১৬টি আসনের মধ্যে সিপিআই (এম-এল) চারটি আসন চেয়েছে। ১৯৭৭ সাল থেকে গলসি আসনে প্রার্থী দেয় ফরওয়ার্ড ব্লক। এ বার তারা আরও একটি আসন বেশি দাবি করেছে। শরিক দলগুলির দাবি, কংগ্রেসের জোট নেই। একদা দুর্গ পূর্ব বর্ধমানে লাল রঙ ফিকে হয়ে গিয়েছে। সিপিএমের ভোট দাঁড়িয়েছে ৬-৭%। এই পরিস্থিতির জন্যই তারা বেশি আসন দাবি করেছে।
ফরওয়ার্ড ব্লকের পূর্ব বর্ধমানের নেতা ফজরুল হক বলেন, “১৯৭৭ সাল থেকে গলসি আসন আমাদের দখলে রয়েছে। সেটাও সিপিএম আমাদের ছাড়তে চাইছে না।” মার্কসবাদী ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রতীকে জামালপুরে বেশ কয়েকবার জিতেছেন সমর হাজরা। ১৯৭২ সাল থেকে জামালপুরে বামফ্রন্টের শরিক হিসাবে প্রার্থী দেন তাঁরা। সমরের কথায়, “আলোচনা চলছে। তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আশা করা যায়, জামালপুর আসনে আমাদের প্রার্থীই দাঁড়াবেন।” পূর্ব বর্ধমানের কোনও আসন আরএসপি দাবি করেনি। তবে, আইএসএফ বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থী দেবে বলে সিপিএমকে চিঠি দিয়েছে। জানা যায়, ‘অগ্রাধিকার’ চিহ্নিত করে দলের জেলা নেতৃত্ব তাঁদের কাঙ্ক্ষিত আসনের তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছে রাজ্যে। অধিকাংশ এরিয়া কমিটি ও তার নীচের স্তরের নেতৃত্বের মত, ভবিষ্যতের কথা ভেবে বেশি সংখ্যক আসনে নিজেরা লড়ে সংগঠনকে ঝালিয়ে নিক সিপিএম। কাল, শনিবার পার্কাস রোডে সিপিএমের জেলা দফতরে জেলা কমিটি ও এরিয়া কমিটির সদস্যদের নিয়ে সাধারণ সভা হবে। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমেরও থাকার কথা সেখানে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক সৈয়দ হোসেন মনে করছেন, শনিবারের মধ্যেই আসন-রফা হয়ে যাবে। সিপিএমের দাবি, আসন রফা হয়ে গেলে প্রার্থী বাছাই করতে বেশি সময় লাগবে না।
সূত্রের খবর, বামফ্রন্টের বৈঠকে আসন-রফা নিয়ে শরিকদের সঙ্গে যেমন টানাটানি চলছে, তেমনি আইএসএফের আসন-দাবির তালিকা বার বার বদলছে। নিচুতলার কর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন, অন্য রাজনৈতিক দলগুলি যেখানে দেওয়ালে প্রতীকের ছবি আঁকছে, সেখানে তাঁদের ‘চুপ’ করে বসে থাকতে হচ্ছে। জেলা কমিটির এক সদস্যের দাবি, কোথাও কোথাও প্রতীক আঁকা হয়ে গেলেও আসন-রফা আটকে থাকায় জেলা থেকে দেওয়ালে কিছু লিখতে নিষেধ করা হচ্ছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে