নিয়ম মেনে কেন গ্রেফতার হয়নি! জিআরপিকে শো-কজ় করল আদালত

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৪ ২৩:৪১
Share:

বর্ধমান স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রচুর পরিমাণ রূপোর গয়না উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় জেনারেল ডায়েরি নথিভুক্ত করে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে জিআরপি। তাঁর বিরুদ্ধে আদালতগ্রাহ্য ধারায় মামলা রুজু হয়নি। গ্রেফতারের আগে তাঁকে সিআরপিসি-র ৪১এ ধারায় নোটিস দেওয়া হয়নি। গ্রেফতারে বাধ্যবাধকতার বিষয়েও চেকলিস্ট আদালতে পেশ করেনি জিআরপি। অথচ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এ ধরনের মামলায় নোটিস ধরানো বাধ্যতামূলক ছিল। কী কারণে জিআরপির ওসি ও তদন্তকারী অফিসার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা থেকে সরে এল, সে ব্যাপারে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিলেন বর্ধমানের সিজেএম চন্দা হাসমত।

Advertisement

আগামী ৬ এপ্রিল জিআরপির ওসি ও তদন্তকারী অফিসারকে এ ব্যাপারে তাঁদের বক্তব্য আদালতে জানাতে হবে। শুক্রবার সিজেএম এই নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তের আইনজীবী পার্থ হাটি বলেন, ‘‘জেনারেল ডায়েরির ভিত্তিতে এ ভাবে কাউকে গ্রেফতার করা যায় না। আদালতগ্রাহ্য মামলাও রুজু হয়নি। পুলিশ এফআইআর না করে এ ক্ষেত্রে একজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের আগে সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের নির্দেশিকা মেনে অভিযুক্তকে নোটিস দেওয়া উচিত ছিল। তা-ও করা হয়নি। জেনারেল ডায়েরির ভিত্তিতে কাউকে গ্রেফতার করে এ ভাবে আটকে রাখা যায় না। এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের গাইডলাইন মানা হয়নি। অন্যায় ভাবে এক জনকে গ্রেফতার করে আদালতে চালান করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জিআরপির ওসি ও তদন্তকারী অফিসারের ব্যাখ্যা তলব করেছেন সিজেএম।’’

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২ মার্চ ভোরে বর্ধমান স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে অজয়কুমার বর্মা নামে হুগলির রিষড়া থানার রবীন্দ্র সরণির এক বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়। তল্লাশিতে তাঁর কাছে থাকা ট্রলি ব্যাগ থেকে ১৪ কেজি ৯৯৪ গ্রাম রূপোর গয়না উদ্ধার হয়। জিআরপির দাবি, গয়নার কোনও কাগজপত্র অভিযুক্ত দেখাতে পারেননি। ডায়েরি নথিভুক্ত করে চুরির মাল সন্দেহে তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হয়। আদালত অবশ্য তাঁর জামিন মঞ্জুর করে। আদালত রূপোর গয়না অভিযুক্তকে ফেরত দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। যদিও উপযুক্ত নথিপত্র তিনি দেখাতে পারেননি বলে দাবি করে জিআরপি বাজেয়াপ্ত হওয়া গয়না ফেরত দেয়নি। এর পরেই গ্রেফতারি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে হলফনামা জমা দেন ধৃত। তার ভিত্তিতেই এদিন সিজেএম ওসি ও তদন্তকারী অফিসারের ব্যাখ্যা তলব করেছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement