—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
গত দু’টি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে কাটোয়া কেন্দ্রের কোথাও দেওয়ালে ‘কাস্তে হাতুড়ি তারা’ চোখে পড়েনি। অতীতে যাঁরা ওই চিহ্নে ভোট দিতেন, বাম-কংগ্রেস জোটধর্ম রক্ষায় তাঁদের অনেকেই গত দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে হাত প্রতীকে বোতাম টিপেছিলেন। জোটের বাধ্যবাধকতায় সিপিএম কর্মীদের ভোটের দেওয়ালে হাত চিহ্ন আঁকতে দেখা গিয়েছিল। সেই পরম্পরায় ছেদ পড়ছে এ বার। পনেরো বছর পরে এ বার বিধানসভা ভোটে কাটোয়া আসনে বামেরা একা লড়বে। কংগ্রেস সঙ্গ ছাড়া নিয়ে বামেদের অন্দরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও, বিচ্ছেদে খুশি কাটোয়ার বেশির ভাগ সিপিএম কর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, ‘‘আর যাই হোক, এ বার আর দেওয়ালে হাত চিহ্ন আঁকতে হবে না। ইভিএমে হাত চিহ্নের পাশের বোতাম টিপতে হবে না।’’
২০১১-র বিধানসভা ভোটে কাটোয়া আসনে শেষ বার লড়াই করেছিল সিপিএম। তৃণমূল-কংগ্রেস জোটপ্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ২০ হাজারের কিছু বেশি ভোটে পরাজিত হন সিপিএম প্রার্থী। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের হয়ে রবীন্দ্রনাথ ওই আসনে বাম-কংগ্রেস জোটপ্রার্থীকে হারান। ব্যবধান ছিল এক হাজারের কম। শেষ বিধানসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ ন’হাজারের কিছু বেশি ভোটে হারান বিজেপি প্রার্থীকে। কম-বেশি ১৩ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী।
এ বার কাটোয়ায় সিপিএম কাকে প্রার্থী করে তা নিয়ে চর্চা চলছে। শহরে বামেদের সংগঠন তেমন শক্ত নয়। তবে গ্রামে কিছু জায়গায় শক্তি রয়েছে তাঁদের। যদিও সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, ‘‘মেরুকরণ অনেকটাই ফিকে হয়েছে। মানুষ এখন তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির সেটিং বুঝতে পারছেন। গত কয়েক বছরে কৃষক, শ্রমিক, যুবক ও মহিলাদের নিত্যদিনের সমস্যা নিয়ে বামেরা যে আন্দোলন করেছেন, তাতে বহু সাধারণ মানুষের সমর্থন ছিল। তাই কাটোয়া আসন নিয়ে আমরা আশাবাদী।’’
সিপিএম নেতাদের দাবি, দীর্ঘ পনেরো বছরের জড়তা কাটিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে নেমে পড়েছেন কর্মীরা। তবে কে প্রার্থী হবেন, তা খোলসা করেননি। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘যাঁকেই প্রার্থী করা হোক, তিনি হবেন শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের প্রকৃত প্রতিনিধি।’’ দলের অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যায়, কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা থাকায় গত এক দশক কাটোয়ায় কাউকে দলের ‘মুখ’ করা যায়নি। তরুণ প্রজন্মের কাউকে প্রার্থী করা যায় কিনা, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে দলের অন্দরে।
বাম জমানায় শেষ ১৫ বছরে কাটোয়া বিধানসভা ছাড়া মহকুমার সর্বত্র সিপিএমের দাপট ছিল। কাটোয়া বিধানসভা দখলে না থাকলেও কলেজ ভোট থেকে শুরু করে পুরসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে সমান তালে লড়ছিল সিপিএম। তবে পালা বদলের পরে গ্রামেও জনসমর্থন হারিয়েছে বামেরা। যদিও সিপিএমের কাটোয়া এরিয়া কমিটির সম্পাদক প্রকাশ সরকার বলেন, “আমরা সারা বছরই শ্রমজীবী মানুষের নানা দাবি দাওয়া নিয়ে রাস্তায় থাকি। কংগ্রেসের সঙ্গে গত দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের জোট ছিল না। শুধুমাত্র আসন সমঝোতা হয়েছিল। বাম জমানার উন্নয়নের ছবি ফিরিয়ে আনতে মানুষ আমাদের সমর্থন করবেন।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে