পতাকা নিয়ে মিছিল করে গিয়ে ভবনের দখল নিল সিপিএম। —নিজস্ব ছবি।
আর্থিক সঙ্কটে পড়ে ভাড়া দেওয়া সেই দলীয় কার্যালয় অবশেষে পুনরুদ্ধার করল সিপিএম। শনিবার পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায় মিছিল করে কার্যালয়ে পৌঁছোন সিপিএম নেতা-কর্মীরা। তার পর ভবনে ঢোকেন তাঁরা। রং করা হয় কার্যালয়ের সামনের অংশ।
গুসকরা শহরের উপর দাঁড়িয়ে সিপিএমের লোকাল কমিটির কার্যালয়। নাম ‘রবীন সেন ভবন।’ শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লজপাড়া এলাকায় ওই ভবনটি আর্থিক সমস্যার কারণে এক ব্যবসায়ীকে লিজ়ে দেন সিপিএম নেতৃত্ব। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও সেই ব্যবসায়ী ভবনের দখল ছাড়েননি বলে অভিযোগ। ওই নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতর চলছিল। সিপিএমকে কটাক্ষ করেও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল শাসকদল তৃণমূল।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শিল্প ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সিপিএম। শনিবার ধর্মঘটের সমর্থনে গুসকরা শহরে মিছিল করেছিল তারা। মিছিল লজপাড়া এলাকায় পৌঁছোনোর পরেই সিপিএমের কর্মীরা রবীন সেন ভবনের ‘দখল’ নেন। সিপিএমের গুসকরা শহর এরিয়া কমিটির সম্পাদক ইরফান শেখ বলেন, “আমরা একসময় আর্থিক সমস্যার কারণে এই ভবন লিজ়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু লিজ়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও ওই ব্যবসায়ী দখল ছাড়ছিলেন না। একাধিক বার অনুরোধ করা হয়। শেষ পর্যন্ত দলীয় কর্মীরাই ভবনের দখল নেন। কোনও রকম বাধার মুখে পড়তে হয়নি।”
১৯৯৯ সালের মে মাসে রাজ্যের তৎকালীন মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরী ‘রবীন সেন ভবন’-এর উদ্বোধন করেন। দীর্ঘ দিন ধরে ওই ভবন থেকেই গুসকরা শহরে সিপিএমের সাংগঠনিক কাজকর্ম পরিচালিত হত। ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সিপিএমের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হতে শুরু করে বর্ধমান শহরেও। আর্থিক সঙ্কট কাটাতে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে গুসকরার বাসিন্দা, পেশায় প্রোমোটার স্বপন পালকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার চুক্তিতে ভবনটি লিজ়ে দেন সিপিএম নেতৃত্ব। কিন্তু ২০২২ সালের জানুয়ারিতে লিজ়ের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ভাড়াটে তিনতলা ভবনটি ছাড়েননি বলে অভিযোগ ওঠে। এর পর বেশ কয়েক বার চেষ্টা করেও ভাড়াটে ওঠাতে ব্যর্থ হয় তারা। কিছু দিন আগে এ নিয়ে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল সিপিএম। অন্য দিকে, ওই ব্যবসায়ী দাবি করেন, তিনি নিয়ম মেনে ভাড়া দিয়েছেন। কোনও অনিয়ম হয়নি। তবে সিপিএম সংশ্লিষ্ট ভবন ‘পুনরুদ্ধার’ করার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি।