Asansol Durgapur Development Authority

এডিডিএ-র প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ঘিরে উঠছে প্রশ্ন

জানা গিয়েছে, রাজ্যে পালা বদলের পরে বিজেপির দুই বিধায়ক দুর্গাপুর পশ্চিমের লক্ষ্মণ ঘোড়ুই এবং দুর্গাপুর পূর্বের চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এডিডিএ-তে যান।

সুব্রত সীট

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০৯:৩২
Share:

আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ। —ছবি : সংগৃহীত

বিভিন্ন সংস্থার সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থে গড়ে তোলা আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের (এডিডিএ) একাধিক প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঢাকঢোল বাজিয়ে উদ্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলি পরিচালনার সুষ্ঠু ও স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ।

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা সিটি সেন্টারের ‘ডিয়ার পার্ক’-এর জায়গায় খুদেদের জন্য নতুন পার্ক গড়ার পরিকল্পনা নেয় এডিডিএ। ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের শিলান্যাস হয়। একটি বেসরকারি সংস্থার আর্থিক সহায়তায় পার্কটি নির্মাণ করা হয়। এই পার্কে খেলাধুলোর ব্যবস্থা। বিদেশি পাখির প্রদর্শনী, প্রবীণদের নিরাপদে বসা এবং হাঁটার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি জাঁকজমক করে পার্কের উদ্বোধন করা হয়। একটি বেসরকারি সংস্থাকে পার্ক পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

জানা গিয়েছে, রাজ্যে পালা বদলের পরে বিজেপির দুই বিধায়ক দুর্গাপুর পশ্চিমের লক্ষ্মণ ঘোড়ুই এবং দুর্গাপুর পূর্বের চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এডিডিএ-তে যান। তাঁরা কথা বলেন সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে। এডিডিএ-র বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তাঁরা। সেই সময়েই জানা যায়, পার্কটি পরিচালনার দায়িত্ব ওই বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে কোনও দরপত্র ছাড়াই। তিন মাসের একটি চুক্তি করা হয়েছে সংস্থার সঙ্গে। জুনে মেয়াদ শেষ হবে। পার্কটি সাজাতে টাকা ঢেলেছে সংস্থাটি। নতুন সরকার আসায় আর মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন না সংস্থার কর্তারা। কার্যত তাঁরা পড়েছেন অতান্তরে।

দুর্গাপুরে সরকারি উদ্যোগে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের জন্য এমএএমসি গেস্ট হাউস সংস্কার করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর জন্য ২০২৫ সালে উদ্যোগী হয় এডিডিএ। ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি বেসরকারি ইস্পাত কারখানা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় কাজের সূচনা হয়। রাজ্যে পালা বদলের পরে সেই প্রকল্পের কাজও থমকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইস্পাত কারখানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মাস তিনেক আগে চালু করা দু’টি সুইমিং পুলও বেহাল। ২০২৬ সালের ৬ মার্চ সুইমিং পুল দু’টির উদ্বোধন হয়। দু’টি বেসরকারি ইস্পাত কারখানার সামাজিক প্রকল্পের অর্থে সে দু’টি তৈরি করা হয়। সূত্রের খবর, উদ্বোধনের দিন এডিডিএ-র তরফে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক মানের এই দুই সুইমিং পুলে সাঁতার প্রতিযোগিতার পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে উৎসাহীরা সাঁতার শিখতে পারবেন। এডিডিএ-র তরফে আরও জানানো হয়, সুইমিং পুল পরিচালনা করবে দুর্গাপুর পুরসভা। অভিযোগ, একটি সুইমিং পুলে জল শুকিয়ে গিয়েছে। অন্যটির নোংরা জল থেকে কার্যত দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে। উদ্বোধনের পর থেকে কোনও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, মৌখিক ভাবে এডিডিএ কর্তৃপক্ষ সুইমিং পুল পরিচালনার কথা বললেও লিখিত ভাবে কোনও নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি।

বিধায়ক চন্দ্রশেখর বলেন, “আমরা এডিডিএ-তে গিয়ে দেখেছি, অনিয়মের শেষ নেই। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গত কয়েক বছরে যা নয় তাই করা হয়েছে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এডিডিএ-র এক আধিকারিক বলেন, “যে সমস্ত প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, নতুন বোর্ড দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত সেগুলির বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনই বলা মুশকিল।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন