‘যুব সাথী’র ফর্ম নিতে। বুধবার দুর্গাপুরে। ছবি: বিকাশ মশান।
শিল্পাঞ্চল হিসাবে পরিচিত জেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ অন্য নানা জেলার তুলনায় বেশি। কিন্তু সেখানেও ‘যুব সাথী’ প্রকল্পে জমা আবেদনের সংখ্যা দেড় লক্ষের দিকে চলেছে। বুধবার পর্যন্ত এই প্রকল্পে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় প্রায় এক লক্ষ ৪০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর। দশ দিনে এত সংখ্যক আবেদন জমা প্রকল্পের সাফল্য হিসাবে দেখছে তৃণমূল। বিজেপির দাবি, ভোট কিনতে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের কী হাল, তা এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বলেও দাবি তাদের।
রাজ্য সরকার অন্তর্বর্তী বাজেটে ‘যুব সাথী’ প্রকল্পে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের জন্য মাসে দেড় হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণার পরে, ১৫ ফেব্রুয়ারি আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। জেলায় প্রথম দিন থেকেই আবেদন জমার ভিড় দেখা গিয়েছে শিবিরগুলিতে। যত দিন গিয়েছে ভিড় বেড়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। যুব সাথী ছাড়াও, লক্ষ্মীর ভান্ডার, ভূমিহীন খেতমজুরদের জন্য ভাতা প্রভৃতি প্রকল্পের আবেদনপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে শিবিরে। তবে যুব সাথীর জন্য সর্বাধিক সংখ্যক আবেদন জমা পড়ছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত জেলায় বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ১,৯৭,৫৫৮টি আবেদনপত্র জমা পড়েছে। তার মধ্যে যুব সাথীর জন্যই ১,৪৩,৯১৭টি আবেদনপত্র জমা পড়েছে।
দুর্গাপুর মহকুমার ছ’টি জায়গায় ফর্ম বিলি ও জমার শিবির করা হয়েছে। দুর্গাপুর শহরের ভগৎ সিংহ স্টেডিয়াম, বোকারো হস্টেল এবং কাঁকসা, অন্ডাল, পাণ্ডবেশ্বর এবং দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লক কার্যালয়ে শিবির খোলা হয়েছে। এই সব শিবিরে গিয়ে দেখা গিয়েছে, সরকারি কর্মী-আধিকারিকদের পাশাপাশি, তৃণমূল কর্মীরাও আবেদনকারীদের সহযোগিতা করছেন। শাসক দলের জনপ্রতিনিধিরাও নিয়মিত শিবির পরিদর্শন করছেন, সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ নিচ্ছেন। সম্প্রতি দুর্গাপুর শহরের দু’টি শিবির পরিদর্শন করেন বর্ধমান-দুর্গাপুরের তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ, কাঁকসা ব্লক কার্যালয়ের শিবিরে যান দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক তথা মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। কীর্তি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির কারণে একের পর এক সরকারি কারখানা ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে, বেকারত্ব বাড়ছে। কেন্দ্র কর্মসংস্থান তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বেকারদের স্বার্থে কাজ করে চলেছেন।’’
বিজেপির পাল্টা দাবি, যুব সম্প্রদায়ের ভোট কিনতে এই ভাতা দেওয়া হচ্ছে। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের অভিযোগ, ‘‘তৃণমূলের আমলে কর্মসংস্থান বলে কিছু নেই। তাই বাধ্য হয়ে বেকার যুবক-যুবতীরা যুব সাথীর ফর্ম তুলছেন। ভোট কিনতে এমন প্রকল্প চালু করা হল।’’ এর পরেই তাঁর বক্তব্য, ‘‘জনগণের করের টাকায় ভাতা দেওয়া হচ্ছে। তাই সবার তা নেওয়া উচিত। কিন্তু মাসে দেড় হাজার টাকায় কী হবে? বিজেপি ক্ষমতায় এসে কল-কারখানা গড়বে। বেকারদের কাজের খোঁজে বাইরে যেতে হবে না।’’
তৃণমূলের অন্যতম জেলা সম্পাদক পঙ্কজ রায় সরকারের পাল্টা অভিযোগ, ‘‘বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রীয় সরকারের হিসাবেই ১১ বছরে কাজ পেয়েছেন মাত্র ২২ লক্ষ! তাই বিজেপির কথার কোনও গুরুত্ব নেই।’’ তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সীমিত ক্ষমতা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের স্বার্থেবিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছেন। ‘যুব সাথী’ প্রকল্প বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি, যাতায়াত-সহ নানা খরচের সুরাহা হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে