WB Elections 2026

‘মিথ্যার ঝুড়ি’, মোদীকে জবাব দিলেন মমতা

সৌমেন দত্ত

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২৮
Share:

খণ্ডঘোষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সুপ্রকাশ চৌধুরী।

ভাগীরথী তীরবর্তী কালনার সভা থেকে শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যের ‘শস্যগোলা’ পূর্ব বর্ধমানে চাষের দুর্দশা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। অভিযোগ করেছিলেন, বর্ধমানের সীতাভোগ-মিহিদানার রফতানিতে তৃণমূলে ‘গা নেই’। রবিবার দুপুরে দামোদরের তীরে খণ্ডঘোষের লোদনার মাটিতে সভা করে সে সবের জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কালনায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “বর্ধমানকে ধানের গোলা বলা হত। এই এলাকার পরিচয় ছিল পাটের সঙ্গে। জমি এমন যে তিনটি ফসল ফলানো যায়।” নাম না করে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে মনে করিয়ে দেন, “ওরা জানে না, বর্ধমানের মাটিতে এক বারের জায়গায় তিন বার চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে।” খণ্ডঘোষে মূলত ধান চাষ হয়। আলুর চাষও হল অল্প। চাষ নিয়ে বলার ফাঁকে পরোক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গ্রামগঞ্জের খবর রাখ? কৃষি উৎপাদন কত বেড়েছে, খবর রাখ? এক বারের জায়গায় তিন বার কৃষি উৎপাদন হয়। খবর রাখ?” তার পরে সমালোচকদের মনে করিয়ে দেন, “চাষিভাইদের কাছ থেকে আমরা ধান কিনে নিই। বছরে ৫৪ লক্ষ টন। খাদ্যসাথীর মাধ্যমে বিনা পয়সায় সেই ধান পৌঁছে দিই।”

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, “রাজ্যে বিজেপির সরকার হলে চাষিদের সুবিধা দেওয়া হবে।” মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা, কৃষকবন্ধুরা বছরে ১০ হাজার টাকা পান। এক কাঠা জমি থাকলেও বছরে চার হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। এ বার থেকে খেতমজুরদেরও বছরে চার হাজার টাকা দেওয়া হবে। অনেকে নাম লেখাতে শুরু করেছেন। টাকাও পেতে শুরু করেছেন। সঙ্গে যোগ করেন, “চাষিদের কৃষিযন্ত্র দেওয়া হয়। বাজেটে বলা আছে, যাঁরা বিদ্যুতের মাধ্যমে দু’হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ ছোটো জমি চাষ করতেন, সেই টাকা আর দিতে হবে না। সরকার দেবে। আপনারা চাষ করবেন। টাকা সরকার দেবে।” কৃষির উন্নয়নের জন্যে নিম্ন দামোদর অববাহিকায় তিন হাজার কোটি খরচে সেচ ব্যবস্থা ও মাছ চাষের উন্নতি ঘটানো হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ ছিল, তৃণমূল সরকারের ‘ধোঁকায়’ আলু চাষিদের জীবন ‘বরবাদ’ হয়েছে। সহায়কমূল্যে আলু কেনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আলু নষ্ট হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর জবাব, “মিথ্যার ফুলঝুরি ওড়াচ্ছে। বলছে, বাংলায় নাকি আলু পচে যাচ্ছে! আমি বলি, যখন বন্যা হয়, আলুচাষিদের জমি নষ্ট হয়, ধান চাষির জমি নষ্ট হয়, তুমি কী কর? কুম্ভকর্ণের মতো নাক ডেকে ঘুমাও। আমাদের কৃষি দফতর বাড়ি বাড়ি যায়। চাষিদের জমি জরিপ করে। পুরো ক্ষতিপূরণ (দেওয়া) হয়। বিমার জন্য চাষিদের টাকা দিতে হয় না। আমরা দিই।” সভা শেষে জামালপুরের তৃণমূল নেতা মেহেমুদ খান মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, সহায়কমূল্যে আলু বিক্রি করে অনেক চাষি এখনও দাম পাননি। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে জানান, দাম পেয়ে যাবেন। তার পরে ফের মাইক হাতে তিনি বলেন, “আলু চাষে যাঁদের ক্ষতি হয়েছে, তাঁরা অবশ্যই ক্ষতিপূরণ পাবেন। আলু চাষে বিমা করা রয়েছে।”

সভায় মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি নেতৃত্বের উদ্দেশে বলেন, “কাটোয়ায় গিয়ে বলেছে, সীতাভোগ-মিহিদানা সব বিদেশে রফতানি হবে। ওরা জানে না শক্তিগড়ের ল্যাংচাও আছে বর্ধমানে। আমরা মিষ্টিহাব করেছি। বিশ্ব বাংলার সব দোকানে সীতাভোগ, মিহিদানা বিক্রি করি, বাংলার হাটে বিক্রি করি। গরু গাছে ওঠার গল্প করে।” বেকারত্ব নিয়ে নাম না করে প্রধানমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, “বলছে, এখানে না কি চাকরি হয় না। তোমাদের সেনাতে ক’টা লোক নিয়েছ? তোমার রেলে লোক নেই। একটাও শূন্যপদ ভর্তি করনি। দু’কোটি লোকের চাকরি দেবে বলেছিলে, দাওনি। বাংলায় আমরা দু’কোটি লোকের চাকরি দিয়েছি। ৪০ শতাংশ বেকারি কমিয়েছি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন