পাট্টা দেওয়া সার, দেখভাল নেই গাছের

এলাকার বহু জায়গাতেই গজিয়ে উঠেছে ছোট-বড় বিভিন্ন কারখানা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দূষণ। সেই দূষণে লাগাম টানতে গত বছর একশো দিনের প্রকল্পের মাধ্যমে ‘বৃক্ষ পাট্টা প্রদান’ কর্মসূচি নেওয়া হয়।

Advertisement

বিপ্লব ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০১৬ ০১:৩৪
Share:

বেড়া ভেঙে তছনছ পাট্টার গাছ। নিজস্ব চিত্র।

এলাকার বহু জায়গাতেই গজিয়ে উঠেছে ছোট-বড় বিভিন্ন কারখানা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দূষণ। সেই দূষণে লাগাম টানতে গত বছর একশো দিনের প্রকল্পের মাধ্যমে ‘বৃক্ষ পাট্টা প্রদান’ কর্মসূচি নেওয়া হয়। কিন্তু পরিবেশ দিবসের আগে-পরে কাঁকসার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেল, বেশ কয়েকটি জায়গাতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রকল্পের কাজ। বহু এলাকাতেই নষ্ট হতে বসেছে গাছের চারা। প্রশাসনের কর্তাদের একাংশের অভিযোগ, সচেতনতার অভাবেই এমন ছবি দেখা যাচ্ছে কাঁকসায়।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর জেলার বিভিন্ন ব্লকের মতো কাঁকসাতেও রাজ্য সরকারের প্রকল্পে ‘বৃক্ষ পাট্টা’ দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির নিয়মকানুন কী? প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনও ব্যক্তিকে প্রাথমিক ভাবে পাট্টা দেওয়ার পরে চারা পোঁতা ও এলাকা ঘেরার কাজ করবে ব্লক। যে ব্যক্তিকে পাট্টা দেওয়া হবে, তাঁর দায়িত্ব চারাগুলির দেখভাল করা। চারায় নিয়মিত জল দিতে, গাছের বেড়া যাতে না ভাঙে সে দিকে নজর রাখতে হবে তাঁকে। চারার পরিচর্যার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পারিশ্রমিকও দেওয়া হবে। গাছ বড় হলে তা বিক্রি করে যে টাকা মিলবে, তার ৭০ শতাংশ পাবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং ৩০ শতাংশ যাবে সরকারের তহবিলে।

ব্লক প্রশাসন জানায়, প্রাথমিক ভাবে ১০ হাজার চারাগাছ বিলির পরিকল্পনা হয়েছিল। পরে অবশ্য বাসিন্দাদের ১১ হাজারেরও বেশি চারা গাছের পাট্টা বিলি করা হয়। গোপালপুর, আমলাজোড়া, মলানদিঘি, বিদবিহার-সহ ব্লকের ৭টি পঞ্চায়েতে ২০১৫-র বর্ষার সময়ে কুলডিহা-দোমড়া রাস্তা-সহ বিভিন্ন সরকারি জায়গায় স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে চারা দেওয়া হয়। দেওয়া হয় শাল, সোনাঝুরি, আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি গাছের চারা। চারা পোঁতা ও বেড়ার কাজও করে দেয় প্রশাসন। প্রতিটি চারা পিছু প্রায় ১০০ টাকা মতো খরচ হয় বলে আধিকারিকেরা জানান।

Advertisement

বছর ঘুরতে না ঘুরতেই দু’টি ছবি দেখা যাচ্ছে ব্লক জুড়ে। গোপালপুর, আমলাজোড়ার মতো পঞ্চায়েত এলাকায় গাছের চারাগুলি দ্রুত বেড়ে উঠেছে। রাস্তার দু’পাশে দেখা মিলবে গাছের সারি। পাট্টা পাওয়া এক বাসিন্দা জানান, ‘‘প্রতি দিন সকালে উঠে গাছ দেখতে যাওয়া একটা কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ফলও মিলছে।’’ কিন্তু ঠিক উল্টো ছবি মলানদিঘি, বিদবিহারের মতো পঞ্চায়েতগুলিতে। যেমন, মলানদিঘির কুলডিহা গ্রাম। সেখানে রাস্তার পাশে পোঁতা হয়েছিল বেশ কয়েকটি চারা। প্রথম কয়েক মাস চারার দেখভালও করা হতো। কিন্তু গত মাস তিনেকে চারার দেখভাল হয় না বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের একাংশের। এক জন জানান, অযত্নে শুকিয়ে গিয়েছে গাছের চারাগুলি। কোথাও বা গাছের বেড়াও নষ্ট হচ্ছে। আচমকা দেখভাল বন্ধ হয়ে গেল কেন? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাট্টা প্রাপক এক মহিলা বলেন, ‘‘ঝড়ে গাছের বেড়া ভেঙে গিয়েছিল। তার পরে গরু-ছাগলে চারাগুলি নষ্ট করে দেয়। সেই থেকেই সব বন্ধ!’’

বাসিন্দাদের একাংশ জানান, এই ব্লকেই রয়েছে বাঁশকোপা, বামুনাড়া শিল্পতালুক। রয়েছে ছোট-বড় স্পঞ্জ আয়রন, ইস্পাত-সহ বিভিন্ন কারখানা। সমীর রায় নামে এক বাসিন্দার আক্ষেপ, ‘‘এই কর্মসূচি শুরু হওয়ায় ভেবেছিলাম এলাকার দূষণ-যন্ত্রণা খানিক কমবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন হল কই!’’ পাট্টা-প্রাপকেরা ঠিক মতো দেখভাল করছেন কি না, তা নিয়ে প্রশাসনের নজরদারিরও অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

Advertisement

কাঁকসার বিডিও অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘‘কয়েকটি জায়গায় ভাল কাজ হলেও অনেকে ঠিক মতো কাজ করছেন না। আমরা খোঁজ নিচ্ছি। কোথায় কী গাফিলতি রয়েছে, তা-ও জানা হচ্ছে।’’ এ বার বর্ষাতেও বৃক্ষ পাট্টা বিলি হবে বলে জানিয়েছে ব্লক প্রশাসন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement