রাস্তায় ক্যাব, যাত্রী নিয়ে চিন্তায় মিনিবাস

গ্রামীণ এলাকার সঙ্গে শহরকে জুড়তে গত বুধবার থেকে দুর্গাপুরে চালু হয়েছে ম্যাক্সি ক্যাব (ছোট যাত্রী গাড়ি)। মিনিবাস মালিকদের দাবি, যে সব রুটে ম্যাক্সি চলছে, সেই সব এলাকায় মিনিবাসও চলে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬ ০২:১৮
Share:

শহরে নেমেছে নতুন ক্যাব ‘ম্যাক্সি’। —নিজস্ব চিত্র।

গ্রামীণ এলাকার সঙ্গে শহরকে জুড়তে গত বুধবার থেকে দুর্গাপুরে চালু হয়েছে ম্যাক্সি ক্যাব (ছোট যাত্রী গাড়ি)। মিনিবাস মালিকদের দাবি, যে সব রুটে ম্যাক্সি চলছে, সেই সব এলাকায় মিনিবাসও চলে। তাঁদের ক্ষোভ, একেই রুট না মেনে অটো-টোটো যাত্রী তুলছে। তার উপরে নতুন ক্যাব চালু হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা মিনিবাস মালিকদের।

Advertisement

জেলা পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের ‘গতিধারা’ প্রকল্পে এই নতুন পরিবহণ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। আপাতত কাঁকসার গোপালপুর, কাঁটাবেরিয়া, মলানদিঘি, ত্রিলোকচন্দ্রপুর প্রভৃতি এলাকা থেকে দুর্গাপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ম্যাক্সি যাতায়াত করবে। প্রশাসনের কর্তাদের আশা, এর ফলে বিভিন্ন হাসপাতাল, সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড, দুর্গাপুর স্টেশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে উঠবে গ্রামীণ এলাকার। আপাতত সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত পাঁচটি রুটে মোট ১৮টি ম্যাক্সি চলবে।

মিনিবাস মালিকদের বিভিন্ন সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর শহর-সহ মহকুমার বিভিন্ন রুটে প্রায় তিনশো মিনিবাস চলাচল করে। এমনকী ম্যাক্সির জন্য নির্দিষ্ট করা রুটের বেশির ভাগ এলাকাতেই মিনিবাস চলে বলে দাবি।

Advertisement

শুধু তাই নয়, মিনিবাস মালিকদের দাবি, ২০০৯-র গোড়ায় যখন অটো চালু হয় তখন প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়, যে সব রুটে মিনিবাস চলে না বা খুব কম চলাচল করে সেই সব রুটেই অটো চালবে। কিন্তু বাস্তবে সে সব নিয়ম মানা হয় না বলেই অভিযোগ। ম্যাক্সি ক্যাবের ক্ষেত্রেও তেমনটা হতে পারে বলে আশঙ্কা বাস মালিকদের। এ ছাড়াও শহরের রাস্তায় রয়েছে বহু বেআইনি অটো। ‘দুর্গাপুর মিনিবাস অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনে’র তরফে অলোক চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘‘বাসের যাত্রী সংখ্যা কমছে। অথচ বেআইনি ভাবে চলা অটো, টোটোয় লাহাম নেই। ম্যাক্সি চালু হওয়ায় আমাদের আরও যাত্রী কমবে। সব ধরনের পরিবহণ ব্যবস্থাই থাকুক। কিন্তু তা যাতে আইন মেনে হয়, তার ব্যবস্থা করতে হবে প্রশাসনকে।’’ তাঁর দাবি, হাইকোর্টের রায়ে গ্রামীণ সড়কে ম্যাক্সি চলাচলের কথা বলা হলেও দুর্গাপুরে তা মানা হচ্ছে না।

মিনিবাস মালিকদের অভিযোগ, কন্ট্র্যাক্ট ক্যারেজের পারমিট নিয়ে, ভাড়ার কোনও নির্দিষ্ট প্রকাশিত তালিকা ছাড়াই অটো চলছে শহরে। মিনিবাস মালিকদের সংগঠন ‘দুর্গাপুর প্যাসেঞ্জার ক্যারিয়ার অ্যাসোসিয়েশনে’র তরফে কাজল দে বলেন, ‘‘মিনিবাস পরিষেবা চরম সঙ্কটে। মালিকদের পাশাপাশি কয়েক হাজার কর্মীও আতান্তরে পড়েছেন।’’ এই পরিস্থিতিতে মিনিবাস মালিকদের হুঁশিয়ারি, প্রয়োজনে ধর্মঘটও করতে পারেন তাঁরা। যদিও ম্যাক্সি মালিকদের সংগঠনের তরফে অরূপ জানা বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই গাড়ি চলছে। আমাদের জন্য কারও আশঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।’’

Advertisement

বেআইনি অটো-টোটো প্রসঙ্গে দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক শঙ্খ সাঁতরা বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে দ্রুত অভিযানে নামবে প্রশাসন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement