WB Elections 2026

প্রশ্ন কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে

সঙ্কল্পপত্রে বিজেপি অঙ্গিকার করেছে, আগামী পাঁচ বছরে রাজ্যে এক কোটি মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

সুব্রত সীট

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৭
Share:

বুথে নতুন প্রজন্মের ভোটারেরা। গলসিতে। নিজস্ব চিত্র ।

বিধানসভা ভোটে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া হয়েছে ১৫টি প্রতিশ্রুতি। তার মধ্যে অন্যতম, কর্মসংস্থান সৃষ্টি। দুর্গাপুরের নাগরিকদের অনেকের দাবি, কেন্দ্রে প্রায় বারো বছর ক্ষমতায় থেকেও, আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলি খোলার কোনও চেষ্টা করেনি বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতরে ই-মেল মারফত চিঠি দিয়ে এক নাগরিক দাবিও করেছেন, কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি আদৌ বাস্তবায়িত হবে না।

দুর্গাপুরের রবীন্দ্রপল্লি এ-ব্লকের বাসিন্দা দেবাশিস দাস জানান, সঙ্কল্পপত্রে বিজেপি অঙ্গিকার করেছে, আগামী পাঁচ বছরে রাজ্যে এক কোটি মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার গত ১২ বছরে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি দূরের কথা, কর্মসংস্থানের সুযোগই কমিয়ে দিয়েছে। ‘ভারত অপথ্যালমিক গ্লাস লিমিটেড’ (বিওজিএল), ‘মাইনিং অ্যান্ড অ্যালায়েড মেশিনারি কর্পোরেশন’ (এমএএমসি), ‘হিন্দুস্থান ফার্টিলাইজার কর্পোরেশন লিমিটেড’ (এইচএফসিএল), হিন্দুস্তান কেবলস লিমিটেড (এইচসিএল), বার্ন স্ট্যান্ডার্ডের মতো ভারী শিল্পগুলি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। কার্যত খণ্ডহর হয়ে আছে বন্ধ কারখানাগুলি। চালু কারখানার মধ্যে অ্যালয় স্টিল প্লান্ট, দুর্গাপুর স্টিল প্লান্ট, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস ধুঁকছে। বন্ধ কারখানা চালু বা রুগ্‌ণ শিল্পের পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কোনও পদক্ষেপই আজ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। তা হলে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষের জন্য নতুন চাকরি দেওয়ার দাবি কি আদৌ বিশ্বাসযোগ্য?’ দেবাশিসের বক্তব্য, “এক জন শিল্পাঞ্চলবাসী হিসাবে আমার অভিজ্ঞতায় যা দেখেছি, তা প্রধানমন্ত্রীকে লিখে জানিয়েছি।”

দুর্গাপুরের বিওজিএল, এমএএমসি, এইচএফসিএল কারখানা বন্ধ হওয়ায় কাজ হারান প্রায় দশ হাজার স্থায়ী কর্মী। গত কয়েক বছরে এমএএমসি, এইচএফসিএল খোলার আশ্বাস একাধিক বার দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বাস্তবে তার কোনও তোড়জোড় দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। দুর্গাপুরের প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক বিপ্রেন্দু চক্রবর্তীর কথায়, “বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার বন্ধ কারখানা খোলার কথা ভাবে না। উল্টে, চালু কারখানার বেসরকারিকরণ করে। সারা দেশে কর্মসংস্থান বেহাল।” একই দাবি তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায়ের। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিল্পোদ্যোগীর দাবি, শিল্পে দুর্দিনের জন্য বাম বা তৃণমূলের দায়ও কম নয়। শিল্পবান্ধব পরিবেশ না থাকায়, দুই আমলেই বহু কারখানা বন্ধ হয়েছে।

বিজেপির দাবি, বন্ধ কারখানা খোলার ব্যাপারে রাজ্যের সহযোগিতা দরকার। দলের নেতা লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের অভিযোগ, “এ রাজ্যে তৃণমূলের সরকার শিল্প বলতে বালি, কয়লা, কাটমানি ছাড়া কিছু বোঝে না। ফলে, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলেও কিছু করতে পারেনি। রাজ্যে বিজেপির সরকার এলে অবশ্যই কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।” তৃণমূল নেতা উত্তমের প্রতিক্রিয়া, “বিজেপি কী বলছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সরকারি হিসাব বলছে, গত ১৫ বছরে রাজ্যে ২ কোটির বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন