পদে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়োগপত্র রয়েছে হাতে। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের বাধায় কাজে যোগ দিতে পারছেন না প্রধান শিক্ষক। মহকুমা ও জেলা স্কুল পরিদর্শকের কাছে নালিশ জানিয়েও ফল হয়নি। শেষে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে নবান্নে চিঠি পাঠিয়েছেন ওই শিক্ষক। স্কুল পরিদর্শকদের তরফে উপযুক্ত পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, পড়ুয়াদের অভিভাবকেরা চাইছেন না বলেই ওই শিক্ষককে যোগ দিতে দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশনও দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তাঁরা।
কুলটির মিঠানি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক বৃন্দাবন পালকে গত ১৬ জুন পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় স্কুল সার্ভিস কমিশন তাঁকে রানিগঞ্জ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদে বদলি করে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্দেশ হাতে পেয়ে ওই স্কুলে যোগ দিতে গেলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। তার পরেও বার কয়েক ওই স্কুলে গেলে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, মহকুমা ও জেলা স্কুল পরিদর্শককেও বিষয়টি জানিয়েছিলেন। ২০ জুলাই জেলা স্কুল পরিদর্শকের নির্দেশপত্র নিয়ে স্কুলে যোগ দিতে যান। কিন্তু সে বারও ফিরে আসতে হয়েছে।
বৃন্দাবনবাবু বলেন, ‘‘ওঁরা দাবি করছেন, আমি যোগ দিলে না কি স্কুলের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে তাই। আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করা হয়েছে। প্রতিকার চেয়ে আমি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছি।’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘শাসকদলের শিক্ষক সংগঠনের এক প্রভাবশালী নেতার কলকাঠিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ চক্রান্তে নেমেছে।’’
কেন যোগ দিতে দেওয়া হচ্ছে না বৃন্দাবনবাবুকে? রানিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (টিচার ইন-চার্জ) তথা স্কুল পরিচালন সমিতির সম্পাদক কাশীনাথ চৌধুরীর বক্তব্য, ‘‘পড়ুয়াদের অভিভাবকেরা ওঁকে প্রধান শিক্ষক পদে চাইছেন না। তাঁরা এ ব্যাপারে গণস্বাক্ষর করা একটি চিঠি আমাদের দিয়েছেন। তার পরেই পরিচালন সমিতির বৈঠকে সর্বসম্মতিতে বৃন্দাবনবাবুকে কাজে যোগ না দিতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’’ বৃন্দাবনবাবুর নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশনও করেছেন কাশীনাথবাবু। তিনি দাবি করেন, আগে পিটিশনের ফয়সালা হোক, তার পরে ভাবা যাবে।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃন্দাবনবাবু এই স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদের যোগ্য নন। এখন তিনি যে স্কুলে রয়েছেন, সেখানে বছরখানেক আগে বেশ কয়েক জন অভিভাবকের হাতে নিগৃহীত হন। এই অবস্থায় ১২৭ বছরের পুরনো স্কুলটির সুনাম রক্ষায় রানিগঞ্জের স্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মিঠানির স্কুলটিতে নিয়ম-শৃঙ্খলার কড়াকড়ি করতে গিয়ে বৃন্দাবনবাবু বেশ কয়েক জন অভিভাবকের ক্ষোভের মুখে পড়েন। তাঁকে নিগ্রহে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত চলছে। রানিগঞ্জের স্কুলে যোগ দিতে বাধা দেওয়ায় শাসকদলের প্রভাবশালী এক শিক্ষক নেতার কলকাঠি নাড়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক অদ্বৈত কোনার বলেন, ‘‘কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, তা পরিষ্কার ভাবে জানালে আমরা দেখব। আপাতত বিষয়টি স্কুলের পরিচালন সমিতিই দেখবে। আমরা হস্তক্ষেপ করব না।’’
জেলা স্কুল পরিদর্শক খগেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘‘আমাকে আরও ভাল ভাবে বিষয়টি জানতে হবে। শীঘ্রই এ নিয়ে পদক্ষেপ করব।’’ মহকুমা স্কুল পরিদর্শক অজয় পাল জানান, তিনি শহরের বাইরে ছিলেন। দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে পদক্ষেপ করবেন।