—নিজস্ব চিত্র।
মন্দিরের পর এ বার সোনার দোকানে চুরি পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে। শাটার ভেঙে সোনার দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল ভাতারের দেবপুর বাজারে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ভাতার থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাতারের দেবপুর বাজারে প্রায় ১৫০টি দোকান রয়েছে। ভাতার থানার উদ্যোগে দেবপুর বাজারে সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে। তবে বাজার কমিটি না থাকায় বাজারে কোনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না। রবিবার রাতে সিভিক ভলেন্টিয়াররা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। রাতে দেবপুর কামারপাড়া রোডের দেবপুর বাজার সংলগ্ন উত্তম কর্মকারের সোনার দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। দুষ্কৃতীরা দোকানের শাটার, কলাপসিপেল ভেঙে দোকানে ঢোকে। দোকানে থাকা সিসিটিভির হার্ডডিক্স খুলে ফেলা হয়।
দোকান মালিক উত্তম কর্মকার জানান, সোমবার সকালে তিনি খবর পান, তাঁর সোনার দোকানে শাটার ভাঙা। দোকানে এসে তিনি দেখেন, দুষ্কৃতীরা লকার থেকে প্রায় পাঁচ কেজি রূপোর গয়না এবং চার ভরি সোনার গয়না মিলিয়ে কয়েক লক্ষ টাকার সামগ্রী লুট করেছে। দোকান মালিকের আরও অভিযোগ, এর আগেও তাঁর দোকানে চুরি হয়েছে। বারবার চুরির ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা। ঘটনা জেরে গুসকরা বলগোনা রোডের দেবপুর বাজারে বেশ কিছু ক্ষণ পথ অবরোধ করেন তাঁরা। পুলিশ ও স্থানীয় বিধায়কের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রশাসনের আশ্বাসে অবশেষে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় সঠিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। দোকান মালিক উত্তম কর্মকার এই নিয়ে ভাতার থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, কালী পুজোর পরের রাতেও ভাতারের ওড়গ্রামে পর পর তিনটি কালী মন্দিরে চুরি হয়। লুট হয় তিনটি কালী মন্দির মিলিয়ে ২০ ভরি সোনা ও ২০০ ভরির মতো রূপোর গয়না। এক সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত সেই চুরির কোনও কিনারা পুলিশ করতে পারেনি। স্বাভাবিক ভাবেই পুলিশের উপর মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। জেলা পুলিশ সুপার আমন দীপ বলেন, ‘‘ওড়গ্রামে কালীমন্দির ও সোনার দোকানের চুরির ঘটনা নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।’’