Pandabeswar Death Row

আবাস প্রকল্প থেকে বঞ্চিত? তৃণমূল ও বিজেপির তরজার মাঝে গলায় দড়ি দিলেন গৃহকর্ত্রী! পাণ্ডবেশ্বরে সংঘর্ষ

বিতর্কের সূত্রপাত দিন কয়েক আগে। বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি পাণ্ডবেশ্বরের বেলডাঙার বাসিন্দা সুন্দরাকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:০৫
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

আবাসের বাড়ি নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির রাজনৈতিক তরজার মধ্যে আত্মঘাতী হলেন গৃহকর্ত্রী। শনিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোর চাপানউতর পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে। মহিলার মৃত্যুর পরেও শুরু হয়েছে ভিন্ন বিতর্কের। সুন্দরা সূত্রধর নামে মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের একাংশ দুষছে বিজেপিকে। অন্যেরা আঙুল তুলেছে তৃণমূলের দিকে।

Advertisement

বিতর্কের সূত্রপাত দিন কয়েক আগে। বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি পাণ্ডবেশ্বরের বেলডাঙার বাসিন্দা সুন্দরাকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। প্রাক্তন বিধায়ক তথা আসানসোলের প্রাক্তন পুরপিতা দাবি করেন, এলাকার তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর জন্য সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ওই মহিলা। তিনি আবাস যোজনায় বাড়ি না-পেয়ে ভাঙা মাটির বাড়িতে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। জিতেনের পোস্ট করা ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে যায়। তার মধ্যে বিধায়কের কয়েকজন অনুগামী তথা তৃণমূল কর্মীরা সুন্দরার বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর করেন। তখন সেই মহিলা জানান, তাঁকে প্রলোভন দেখিয়ে ওই বক্তব্য বলানো হয়েছিল। তীব্র হয় রাজনৈতিক চাপানউতর।

এরই মধ্যে শনিবার বাড়ির পাশে গোয়ালঘর থেকে সুন্দরার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে তাঁর পরিবার। পুত্রের দাবি, জিতেন্দ্রর জন্য তাঁর মায়ের পরিণতি। রাজনৈতিক চাপে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন তাঁর মা। তিনি বিজেপি নেতার গ্রেফতারি দাবি করেন।

Advertisement

মহিলার মৃত্যুর খবর পেয়ে বিজেপির পাণ্ডবেশ্বর মণ্ডল–১ এর সভাপতি সবিতা বাগদি তাঁর বাড়িতে যান। আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। শুরু হয়ে যায় দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ এবং হাতাহাতি। তৃণমূলের দাবি, একজন গরিব মহিলার অসহায়তার সুযোগ নিয়ে অপপ্রচার করছিল বিজেপি। সত্যি সামনে আসতে আত্মঘাতী হয়েছেন মহিলা। বিজেপি অভিযোগ করে বিধায়কের লোকজন চাপ দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কিছু কথা বলিয়ে নিয়েছেন ওই মহিলাকে দিয়ে। এই মৃত্যুর দায় তাই শাসকদলকেই নিতে হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মহিলার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে তারা। শুরু হয়েছে তদন্ত।

মহিলার মৃত্যুতে যাবতীয় অভিযোগ নস্যাৎ করে বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র বলেন, ‘‘আমাদের তরফে কোন চাপ থাকতে পারে? আমরা প্রচুর মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা তুলে ধরি। ওই মহিলার জন্যও তা-ই করেছি। কিন্তু তৃণমূলের তরফে তাঁকে যে ভাবে চাপ দিয়ে বলানো হয়েছে, তাতে এই পরিণতি।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement