TMC Leader Beaten to Death

সালিশিতে হিসাব নেওয়ার নাম করে ডেকে তৃণমূল নেতাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ! মঙ্গলকোটে শোরগোল

অভিযোগ, পুরাতনহাট ধর্মরাজতলায় সালিশি সভায় তৃণমূল নেতার উপর চড়াও হন কয়েক জন। শাবল দিয়ে পেটানো হয় তাঁকে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়েছিল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ২১:২৩
Share:

মঙ্গলকোট অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি মিহির ঘোষ। —নিজস্ব চিত্র।

সালিশি সভায় ডেকে তৃণমূল নেতাকে খুনের অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে। মৃতের নাম মিহির ঘোষ। বয়স ৬২ বছর। দীর্ঘ দিন ধরে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি পদে ছিলেন তিনি।

Advertisement

নানা জায়গায় নানা অভিযোগে বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন সদ্য ক্ষমতা হারানো দলের নেতারা। কেউ গ্রেফতার হচ্ছেন, কেউ নিজেই ‘কাটমানি’র টাকা ফেরাচ্ছেন। মিহিরের বিরুদ্ধে গ্রামের বারোয়ারি পুজো কমিটির অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছিল। সপ্তাহখানেক আগে হিসাব নিতে সালিশি সভা বসে গ্রামে। ডাক পড়ে মঙ্গলকোট অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি মিহিরের। অভিযোগ, সেখানে বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। গুরুতর অবস্থায় বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়েছিল মিহিরকে। রবিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছেন তিনি। ওই খবর ছড়াতেই মঙ্গলকোট থানার পুরাতনহাট গ্রামে মিহিরের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কারও আটক বা গ্রেফতারির খবর মেলেনি।

পেশায় কৃষক মিহিরের পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী, দুই পুত্র এবং পুত্রবধূ। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। মৃত নেতার পুত্র প্রবীর ঘোষ জানান, গত ৩০ মে গ্রামের কয়েক জন বাসিন্দা তাঁর বাবাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। তাঁদের দাবি ছিল, গ্রামের বারোয়ারি পুজো কমিটির আর্থিক হিসাব নিয়ে তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে। প্রবীরের অভিযোগ, পুরাতনহাট ধর্মরাজতলায় সালিশিতে একটা পর্যায়ে মিহিরের উপর চড়াও হন কয়েক জন। শাবল দিয়ে পেটানো হয় তৃণমূল নেতাকে। খবর পেয়ে পরিবারের সকলে ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রৌঢ়কে উদ্ধার করেন। সাত দিন ধরে চিকিৎসা চলছিল। রবিবার চিকিৎসকেরা মৃত্যুসংবাদ দেন পরিবারকে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। মিহিরের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের মর্গে।

ওই গ্রামের বাসিন্দা তথা তৃণমূল কর্মী বুদ্ধদেব পালের অভিযোগ, ‘‘আমাদের আরও দু’জনকেও একইভাবে মারধর শুরু করে ওরা। আমরা কোনও রকমে রক্ষা পেয়েছি। কিন্তু মিহিরবাবুকে শাবল দিয়ে মেরেছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘শুধুমাত্র আমরা তৃণমূলকে সমর্থন করি বলি এ ভাবে মারধর করা হল। বিজেপির লোকজন দায়ী।’’ পাল্টা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, ‘‘আমাদের কাছে এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই। পুরোটা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত হোক।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। আমাদের দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আইন হাতে তুলে নিতে বারণ করেছেন। দেখতে হবে এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল কি না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement