ভাতারের জোড়া খুন

ছেলের মোটরবাইকের পিছনেই ছিলাম, দাবি প্রত্যক্ষদর্শী বাবার

মোটরবাইকে চড়ে খেলা দেখতে যাচ্ছিলেন তিন জন। মাঝপথে গুলির ঘায়ে মারা যান দুই বন্ধু জাহাঙ্গির ও রাজেশ। পায়ে আঘাত লাগলেও পালিয়ে বাঁচেন আর এক সঙ্গী মিরাজ শেখ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০১৫ ০১:১০
Share:

মোটরবাইকে চড়ে খেলা দেখতে যাচ্ছিলেন তিন জন। মাঝপথে গুলির ঘায়ে মারা যান দুই বন্ধু জাহাঙ্গির ও রাজেশ। পায়ে আঘাত লাগলেও পালিয়ে বাঁচেন আর এক সঙ্গী মিরাজ শেখ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেই প্রত্যক্ষদর্শী জানালেন, ভাতারের এরুয়ার যাওয়ার পথে পিছন থেকে গুলি করে খুন করা হয় জাহাঙ্গিরকে। আর রাজেশকে তাড়া করে খুন করা হয়েছে।

Advertisement

জাহাঙ্গির শেখের বাবা মোজাদ শেখ এ দিন ভাতার থানায় ১০ জনের নামে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, ‘‘আমি জাহাঙ্গিরের মোটরবাইকের পিছনে আসছিলাম। ওই দলের পাঁচ জনকে চিনতে পেরেছি।’’ পুলিশের কাছে জিয়ার রহমান, ইসা হক-সহ ৫ জনের নামও জানিয়েছেন তিনি। যদিও শুক্রবার রাত পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করেনি পুলিশ। এ দিকে, নিহতদের বা়ড়ি মঙ্গলকোটের নওয়াপাড়া এলাকায় যাতে অশান্তি না ছড়ায় সে জন্য পিকেট বসিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকালে নওয়াপাড়া থেকে ভাতারের এরুয়ার গ্রামে কবাডি খেলা দেখতে যাওয়ার পথে মোটরবাইক আটকে দুষ্কৃতীদের একটি দল গুলি চালায় বলে অভিযোগ। দু’জন ঘটনাস্থলে মারা গেলেও এক জন পালিয়ে বাঁচেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মিরাজ শেখ বলেন, “রাজেশ মোটরবাইক চালাচ্ছিল, আর জাহাঙ্গির পিছনে বসেছিল। আমি ছিলাম মাঝখানে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে আমাদের পিছনে একটি বাইক ধাওয়া করছিল। মুরাতিপুরের কাছে ওই বাইকটি আমাদের বাইকের সামনে এসে আড়াআড়ি দাঁড়িয়ে যায়। রাজেশ মোটরবাইক দাঁড় করাতেই পিছন দিক থেকে আরও একটি মোটরবাইকে এসে জাহাঙ্গিরের মাথায় ও কপালে গুলি করে। ভয়ে রাজেশ গাড়ি ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুষ্কৃতীরা তাঁকেও ঘিরে ধরে খুন করে। আমি ভয়ে নয়ানজুলি দিয়ে কোনও রকমে পালিয়ে প্রাণ বাঁচাই।”

Advertisement

ঘটনার পরেই মঙ্গলকোটের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বাশেদ আলি বলেছিলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এক দুষ্কৃতী জিয়ারুল রহমান গ্রামে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে। ও গ্রামে ঢুকলে অশান্তি পাকবে বলে কয়েকজন যুবক রাত জেগে পাহারা দিচ্ছিল। সেই আক্রোশ থেকেই খুন করা হয়েছে।” পুলিশ জানিয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরে ওই গ্রামে দুষ্কৃতীদের মধ্যে লড়াই লেগেই আছে। দুষ্কৃতীদের দ্বন্দ্বেই এই খুন বলেও পুলিশের অনুমান। অভিযুক্তদের ধরতে জোর তল্লাশি চলছে বলেও পুলিশের দাবি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement