জমি পড়ে ১৫ বছর, মিলছে না কলেজ গড়ার অনুমোদন

প্রায় পনেরো বছর আগেই শহরে কলেজ গড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জমি মিলেছিল, জোগাড় হয়েছিল বেশ কয়েক লক্ষ টাকাও। কিন্তু তারপরেও দাঁইহাট কলেজের অনুমোদন না মেলায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। বিরোধীদের অনুমান, এর পিছনে রাজনৈতিক চাপানউতোর রয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ অগস্ট ২০১৪ ০১:৫৪
Share:

এই জমিতেই কলেজ হওয়ার কথা। নিজস্ব চিত্র।

প্রায় পনেরো বছর আগেই শহরে কলেজ গড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জমি মিলেছিল, জোগাড় হয়েছিল বেশ কয়েক লক্ষ টাকাও। কিন্তু তারপরেও দাঁইহাট কলেজের অনুমোদন না মেলায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। বিরোধীদের অনুমান, এর পিছনে রাজনৈতিক চাপানউতোর রয়েছে।

Advertisement

সেই ১৯৯৭-৯৮ সাল থেকেই দাঁইহাট হৃষিকেশ মিত্র মেমোরিয়াল কলেজ তৈরির জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন বাসিন্দরা। দাঁইহাট উচ্চ বিদ্যালয় কলেজ তৈরির জন্য ৬ বিঘা জমিও দান করে। কিন্তু তারপরে কোনও অজ্ঞাত কারণে সেই প্রচেষ্টা থমকে যায়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে, পুরভোটের আগে কলেজ তৈরি নিয়ে ফের আসরে নামে তৎকালীন সিপিএম পরিচালিত দাঁইহাট পুরবোর্ড। কিন্তু ভোটে হারের পরে কলেজ তৈরির প্রস্তাবও চাপা পড়ে যায়। এরপরে রাজ্যে সরকার বদলায়। ২০১১ সালের ২৮ জুলাই রাজ্য সরকারের শিক্ষা দফতরের সহ-সচিব কে সি আচার্য ওই কলেজ তৈরির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিক্ষা দফতরে জমা দেওয়ার জন্য দাঁইহাটের পুরপ্রধানকে চিঠি দেন।

পুরসভা সূত্রে জানা যায়, ওই চিঠি পাওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পরে, ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর পুরবোর্ডের সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ১৪ ডিসেম্বর পুরপ্রধান সন্তোষ দাস কলেজ তৈরিতে সবরকম সাহায্য চেয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সম্পাদককে চিঠি দেন। ১৭ ডিসেম্বর ওই স্কুলের পরিচালন সমিতি সিদ্ধান্ত নেয়, পুরসভার উদ্যোগে কলেজ গড়ার যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে তাতে তাঁরা সব রকমের সাহায্য করবেন। আরও ৯ বিঘা জমি দান করার কথাও পুরসভাকে জানান তাঁরা। পুরপ্রধান সন্তোষ দাসকে কলেজের সম্ভাব্য পরিচালন সমিতির সম্পাদক করে ১৪ জনের একটি কমিটি তৈরি হয়। ওই পরিচালন সমিতির সদস্যরা জানান, ৯ বিঘা জমির জন্য রেজিস্ট্রি খরচ দাঁড়ায় ৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। ওই টাকা কমাতে গিয়ে বছর দেড়েক পেরিয়ে যায়। অবশেষে ২০১৩ সালের নভেম্বরে কলেজের নামে জমি দান করে দাঁইহাট উচ্চবিদ্যালয়। কলকাতার হাজরা রোডের বাসিন্দা শ্যামলেন্দু মিত্র গত আর্থিক বছরে এই কলেজ তৈরির জন্য কুড়ি লক্ষ টাকা দান করেন। কাটোয়ার কংগ্রেস বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় আগামী দু’টি আর্থিক বছরে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ২০ লক্ষ টাকা কলেজ তৈরির জন্য দেওয়ার জন্য লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পুরপ্রধান সন্তোষ দাস বলেন, “শিক্ষা দফতরের সমস্ত নিয়মকানুন মেনে আমরা কাগজপত্র জমা দিয়েছি। তারপরেও রাজ্য সরকার কেন কলেজ তৈরির অনুমোদন দিচ্ছে না,বুঝতে পারছি না।”

Advertisement

পরের বছর মে মাসে রাজ্যের ৮২টি পুরসভার সঙ্গে দাঁইহাটেও নির্বাচন। ২০০৫ সালে কংগ্রেস ও তৃণমূল জোট করে সিপিএমের কাছ থেকে যে দাঁইহাটের দখল নিয়েছিল কয়েক সপ্তাহ আগে কংগ্রেস পরিচালিত সেই পুরবোর্ড থেকে তৃণমূল জোট তুলে নেয়। প্রদেশ কংগ্রেসের সদস্য তথা দাঁইহাটের বাসিন্দা রাধানাথ ভট্টাচার্যর অভিযোগ, “শাসকদলের অনিচ্ছাতেই কলেজ তৈরির অনুমোদন মিলছে না। দাঁইহাটবাসীর ইচ্ছাকে নিয়ে রাজনীতি করছে তৃণমূল। এমনকী দাঁইহাট হাইস্কুলে কলেজের ক্লাস করারও অনুমোদন দেয়নি সরকার।” অথচ অন্য জায়গায় নতুন কলেজগুলোকে শুরুর দিকে স্কুলে ক্লাস চালানোর অনুমতি এই সরকারই দিয়েছে বলে তাঁর দাবি। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূলের নেতা শুভেন্দু দাস। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, “গত পুরভোটের সময় কলেজ নিয়ে সিপিএম রাজনীতি করেছিল। এ বার একই কায়দায় কংগ্রেস রাজনীতি করছে। অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে তারা।” আর সিপিএমের নেতা, দাঁইহাটের প্রাক্তন পুরপ্রধান বিদ্যুৎবরণ ভক্তের কটাক্ষ, “কংগ্রেস আর তৃণমূলের মধ্যে কলেজ নিয়ে নাটক চলছে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement