Chandannagar Boy Death

৪ মাস আগে গলায় কয়েন আটকেও মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছিল, ১৩ বছরের সেই ছেলে নিজেকে শেষ করল অভিমানে!

চন্দননগর ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁটাপুকুর এলাকায় ভাড়াবাড়িতে থাকেন মনোজ মুদি। ধনেখালির একটি রেস্তরাঁয় পাচকের কাজ করেন। মনোজের স্ত্রী সুমন সাউ এবং শাশুড়ি পুতুল সাউ চন্দননগর মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে একটি কচুরির দোকান চালান।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১২
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি। সৌজন্য: শাটারস্টক।

মাস চারেক আগেকার কথা। খেলতে খেলতে গলায় কয়েন আটকে দমবন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়েছিল ১৩ বছরের দামোদর মুদির। যমে-মানুষে টানাটানির পরে সুস্থ হয়েছিল ছেলেটি। সোমবার তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করলেন বাবা-মা। পরিবারের দাবি, বকাঝকা করায় অভিমানে আত্মহত্যা করেছে কিশোর। এ নিয়ে শোরগোল হুগলির চন্দননগর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে।

Advertisement

চন্দননগরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁটাপুকুর এলাকায় ভাড়াবাড়িতে থাকেন মনোজ মুদি। ধনেখালির একটি রেস্তরাঁয় পাচকের কাজ করেন। মনোজের স্ত্রী সুমন সাউ এবং শাশুড়ি পুতুল সাউ চন্দননগর মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে একটি কচুরির দোকান চালান। মনোজ-সুমনের দুই সন্তান। ছেলে দামোদর বড়। মেয়ে সোহানীর বয়স ১০ বছর।

সোমবার দুপুরে সুমন এবং পুতুল তাঁদের দোকানে ছিলেন। কাজের সূত্রে মনোজও বাইরে। সোমবার স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিবস উপলক্ষে স্কুল ছুটি থাকায় দামোদর আর তার বোন বাড়িতে ছিল। পরিবার সূত্রে খবর, দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পরে মাসি সোনিয়া সাউয়ের কাছে দুই ভাইবোন ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে বোনপোকে দেখতে পাননি সোনিয়া। তাঁর দাবি, খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে বাড়ির পরিত্যক্ত ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান দামোদরকে। তাঁর চিৎকার-চেঁচামেচিতে প্রতিবেশীর ছুটে যান। নাবালককে উদ্ধার করে চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসক জানিয়ে দেন, আগেই মারা গিয়েছে ছেলেটি।

Advertisement

খবর পেয়ে হাসপাতালে যায় চন্দননগর থানার পুলিশ। অন্য দিকে, চুঁচুড়া থানার পুলিশ যায় দামোদরদের বাড়িতে। পরে তারা দেহ উদ্ধার করে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠিয়েছে। মঙ্গলবার দেহের ময়নাতদন্ত হবে।

মৃত কিশোরের মা-বাবা জানান, মাসচারেক আগে দশ টাকার একটি কয়েক গিলে ফেলেছিল দামোদর। বেশ কয়েক দিন ধরে চিকিৎসার পর বিপন্মুক্ত হয় ছেলে। রবিবার রাতে মোটেই ঘুমোচ্ছিল না দামোদর। ছেলেকে বকাবকি করেছিলেন বাবা। কিন্তু সকাল থেকে সব স্বাভাবিক ছিল। দুপুরে সকলে এই দুঃসংবাদ পান। কাঁদতে কাঁদতে সুমন বলেন, ‘‘ছেলে ছোট থেকেই চঞ্চল ছিল। বকাবকি করলে ওই ভাঙা ঘরে গিয়ে লুকিয়ে পড়ত। খালি বলত, ‘আমি পালিয়ে যাব।’’’

নাবালকের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা পাড়া। মৃত্যুর নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement