জমির দাম দিয়েছি নেতাদের, নালিশ কারখানা আবাসনে

বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার অব্যবহৃত জমিতে টাকার বিনিয়মে বসতি গড়তে দেওয়ার অভিযোগ উঠল শাসক দলের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ওই সব বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেওয়ার কথা জানিয়েছে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্য়দ (এডিডিএ)।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০১৫ ০১:০৭
Share:

ভাঙার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে এই বাড়িগুলি। নিজস্ব চিত্র।

বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার অব্যবহৃত জমিতে টাকার বিনিয়মে বসতি গড়তে দেওয়ার অভিযোগ উঠল শাসক দলের বিরুদ্ধে।

Advertisement

সম্প্রতি ওই সব বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেওয়ার কথা জানিয়েছে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্য়দ (এডিডিএ)। শুক্রবার তার প্রতিবাদে এডিডিএ-তে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মহিলারা। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে বেশ কয়েক হাজার টাকা দিয়ে তাঁরা ওখানে বসতি গড়েছেন। অন্য জায়গায় জমি না পেলে তাঁরা বাড়ি ছাড়বেন না। এডিডিএ তরফে অবশ্য ওই বেআইনি নির্মাণগুলি ভেঙে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৬৫ সালে খনির জন্য দরকারি বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি তৈরি করতে এমএএমসি কারখানা তৈরি হয়। ১৯৯২ সালে কারখানাটি বোর্ড ফর ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ফিনান্সিয়্যাল রিকনস্ট্রাকশনের অধীনে চলে যায়। পাকাপাকি ভাবে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায় ২০০২-এর ৩ জানুয়ারি। স্বেচ্ছাবসর দেওয়া হয় কারখানার প্রায় হাজার দেড়েক কর্মীকে। ২০০৩ সালের ২৪ জুন আদালতের রায়ে কারখানা ও আবাসন এলাকা পৃথক হয়ে যায়। ওই বছরই আবাসন এলাকার দায়িত্ব বর্তায় এডিডিএ-র উপর। কিন্তু বছর তিনেক ধরে ওই এলাকাতেই প্রায় শ’খানেক পরিবার বসবাস শুরু করেন। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের মদতেই ওই এলাকায় নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বিক্ষোভরত মহিলারা দাবি করেন, বসতি তৈরির সময় শাসক দলের স্থানীয় নেতারা আশ্বাস দেন, ওই নির্মাণগুলি এডিডিএ যাতে না ভাঙে তারও ব্যবস্থা করা হবে।

Advertisement

টুম্পা প্রামাণিক, সীমা বিশ্বাসদের মতো বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী এ দিন দাবি করতে থাকেন, ‘‘তৃণমূল নেতা টাম্পু মজুমদারের অনুগামীদের হাজার চল্লিশ করে টাকা দিয়েছি। অন্যত্র জমির ব্যবস্থা না করে দিলে কোনও ভাবেই বাড়ি ভাঙতে দেব না।’’ টাম্পুবাবু অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উল্টে, তাঁর দাবি, ‘‘আমাদের দলের কয়েকজন এ সবে যুক্ত। তবে আমরা নই।’’ বিভিন্ন সময়ে দলের ওই সব নেতাদের নামে পোস্টারও পড়েছে বলে তাঁর দাবি। টাম্পুবাবুর আরও দাবি, এমএএমসি-র পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন এলাকাতেই এমন বেআইনি নির্মাণ গজিয়ে উঠেছে। বেআইনি নির্মাণগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আর্জি জানান ওই নেতা।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে জমি পাইয়ে দেওযার অভিযোগ নতুন নয়। চলতি বছরের জুনেও অভিযোগ ওঠে, ২১ হাজার টাকার বিনিময়ে শাসক দলের নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে ‘নিজ ভূমি নিজ গৃহ’ প্রকল্পে জমি পাইয়ে দিচ্ছেন। অনেকে না বুঝে টাকাও দিয়ে দেন। গোটা পরিস্থিতি আঁচ করে টনক নড়ে এডিডিএ-র। এডিডিএ-এর তরফে রীতিমতো ফ্লেক্স লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে টাকা না দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়। কিন্তু এডিডিএ-র কর্তাদের একাংশের আক্ষেপ, ফ্লেক্স লাগিয়েও যে অবৈধ জমির কারবার যে বন্ধ হয়নি এ দিনের ঘটনাই তার প্রমাণ। এডিডিএ’র চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেন, ‘‘কোনও রকম বেআইনি নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement