অ্যাপটির উদ্বোধনে জেলাশাসক। —নিজস্ব চিত্র।
আগেই চালু হয়েছিল ‘স্মার্ট বর্ধমান’। সরকারি কোনও কাজের বরাত পাওয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য থেকে এলাকার নানা পর্যটন কেন্দ্রের খুঁটিনাটি— এ সব জানাতে এ বার ব্লক স্তরেও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পরিষেবা চালু করল বর্ধমানের প্রশাসন। সালানপুর ব্লকে মঙ্গলবার চালু হওয়া এই অ্যাপটি পাইলট প্রজেক্ট বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক সৌমিত্র মোহন। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের কোনও ব্লকে এমন পরিষেবা এই প্রথম।’’
ব্লকের এই মোবাইল অ্যাপের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিডিও সালানপুর’। সালানপুরের বিডিও প্রশান্ত মাইতি জানান, যাঁরা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্লকের যে কোনও তথ্য থাকবে তাঁদের হাতের মুঠোয়। পঞ্চায়েত সমিতির হাতে থাকা বিভিন্ন প্রকল্পের বিশদ তথ্য মিলবে। এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ নিয়ে তথ্য জানতে পারবেন বাসিন্দারা। প্রশান্তবাবুর কথায়, ‘‘ধরা যাক, কোনও একটি কাজের দরপত্র ডাকা হবে। সেটি সংশ্লিষ্ট দফতর অ্যাপসের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে। সেখান থেকে বিশদ তথ্য জানা যাবে।’’
প্রশাসন বা পঞ্চায়েত সমিতির কাজকর্ম নিয়ে বাসিন্দাদের অনেক রকম অভিযোগ থাকে। তাঁরা সেই সব অভিযোগ এই অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি বিডিও-কে জানাতে পারবেন। দফতরে গিয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। বিডিও প্রশান্তবাবু জানান, কোনও অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাপ্তিস্বীকার করা হবে। অভিযোগকারীকে অ্যাপের মাধ্যমেই জানিয়ে দেওয়া হবে, বিষয়টি ক’দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে।
সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্যামল মজুমদার জানান, ব্লকের ১১টি পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান, কর্মাধক্ষ্য, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সহ-সভাপতি, এমনকী প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের ফোন নম্বরও মিলবে ওই অ্যাপে। বাসিন্দারা প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারবেন। এই অ্যাপ কতটা জনপ্রিয় হয় তা দেখার পরে জেলার অন্য ব্লকগুলিতেও তা চালুর ভাবনা রয়েছে বলে জেলাশাসক জানান।
শুধু এই ব্লকের বাসিন্দারা নয়, এই অ্যাপের সুবিধা পাবেন অন্য এলাকার মানুষজনও। বিডিও জানান, রাজ্যের প্রান্তে এই এলাকায় কল্যাণেশ্বরী মন্দির, মাইথন, বাথানবাড়ি, সবুজদ্বীপ-সহ নানা পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিবছর এই সব এলাকায় নানা জায়গা থেকে পর্যটকেরা আসেন। এই সব পর্যটন কেন্দ্র সম্পর্কেও তথ্য থাকবে ওই অ্যাপে। সেখানে থাকা, খাওয়া, ঘোরাফেরার ব্যাপারে নানা খুঁটিনাটি পেয়ে যাবেন পর্যটকেরা। জেলাশাসক জানান, মঙ্গলবার থেকেই ব্লকের বাসিন্দারা অ্যাপের সুবিধা পাবেন। এ দিনেপ অনুষ্ঠানে উপস্থিত আসানসোলের মহকুমাশাসক অমিতাভ দাস জানান, শুধু এলাকাবাসীর নয়, এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রশাসনের কাজও সহজ হবে।