ইরানে মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি বাহিনী হামলা। ছবি: রয়টার্স।
ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাত চরমে। প্রতি মুহূর্তেই ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে বিমানহামলা, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও। কিন্তু এই সমরাস্ত্রের আড়ালে আরও এক অস্ত্র এই সামরিক সংঘাতে প্রয়োগ করা হচ্ছে। সেটি প্রয়োগ করছে আমেরিকা। সামরিক অভিযানে পুরোভাগে থাকা সেই অস্ত্র হল ‘ক্লড এআই’।
আধুনিক যুদ্ধ শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা রকেট হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল আমেরিকার ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযানে। সেই অভিযানে মার্কিন বাহিনী কী ভাবে এতটা সফল হল, তা নিয়ে নানা রকম জল্পনা, আলোচনা চলছিল। তখনই প্রকাশ্যে আসে, ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযানে সাফল্যের কারিগর আমেরিকার সংস্থা অ্যানথ্রোপিক-এর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) টুল ‘ক্লড’। কী ভাবে এআই টুলকে কাজে লাগানো হয়েছিল, তা নিয়ে অবশ্য মুখ খোলেনি আমেরিকা। প্রসঙ্গত, ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর পরই অ্যানথ্রোপিক-এর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একটা টানাপড়েন শুরু হয় এই এআই টুল ব্যবহারের স্বাধীনতাকে ঘিরে। তার পরই অ্যানথ্রোপিকের সঙ্গে সব রকম সম্পর্ক ছেদ করার কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সূত্রের খবর, যে দিনই অ্যানথ্রোপিক-এর সঙ্গে সব রকম সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প, সেই দিনই মার্কিন সেনা ইরানের বিরুদ্ধে এআই মডেল ‘ক্লড’-এর প্রয়োগ করে। সূত্রের খবর, ইরানের বিরুদ্ধে ক্লড-কে সরাসরি হামলার জন্য ব্যবহার করেনি মার্কিন সেনা। বরং হামলার আগে কী ভাবে প্রস্তুতি নেওয়া এবং কী ভাবে হামলা প্রতিহত করা যায়, সেই কৌশলগুলি জানতে ক্লড সহযোগিতা করেছে। ক্লড কোনও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নয়। এটি একটি অত্যাধুনিক এআই মডেল। যে মডেল বিভিন্ন রকমের ডেটা পড়ে, সেগুলিকে বিশ্লেষণ করে। সূত্রের খবর, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক রণনীতি তৈরিতে ক্লড-এর সাহায্য নিচ্ছে আমেরিকা। কোন এলাকায় সামরিক গতিবিধি কেমন, কোন অঞ্চল থেকে হামলার আশঙ্কা রয়েছে, কোথায় সেনা বা অস্ত্র মোতায়েন করা হচ্ছে— ইত্যাদি তথ্য দিয়ে সেনাকে সাহায্য করছে। দ্বিতীয়ত, কোন জায়গাকে নিশানা করা হবে, সেটি ঠিক করে দিচ্ছে। কোন জায়গাকে আগে নিশানা করা উচিত, তথ্যের ভিত্তিতে তা স্থির করে দিয়ে সেনাকে সহযোগিতা করছে। তৃতীয়ত, যদি কোনও বিশেষ জায়গায় হামলা করা হয়, তার সম্ভাব্য প্রভাব কতটা পড়বে, কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হবে, আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ কতটা ক্ষতির মুখে পড়বে— সব কিছু বিশ্লেষণ করে দিচ্ছে ‘ক্লড’। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেনাকেই নিতে হয়। এআই টুল শুধু বিকল্প রাস্তা বিশ্লেষণ করে।
ঠিক সে ভাবেই ইরানে হামলার ক্ষেত্রে ‘ক্লড’ বিশ্লেষণ করে দিয়েছিল গুরুত্বের বিচারে কোন জায়গায় আগে হামলা চালানো উচিত। আর ‘ক্লড’-এর সাহায্যেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের প্রায় হাজারটি জায়গাকে নিশানা করেছিল আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল।