দাম বাড়ায় খুঁটি কম, দাবি কর্তার

১৬২টির জায়গায় ১১৪টি বিদ্যুতের খুঁটি পোঁতা হয়েছে। শুক্রবার কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে এই হিসেবই দিলেন গুসকরার পুরপ্রধান বুর্ধেন্দু রায়। এ দিন কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রকল্প থেকে পুরসভার কোন ওয়ার্ডে কত বাড়ি তৈরি হবে সে ব্যাপারে বৈঠক ডাকা হয়েছিল।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৫ ০০:৫১
Share:

১৬২টির জায়গায় ১১৪টি বিদ্যুতের খুঁটি পোঁতা হয়েছে। শুক্রবার কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে এই হিসেবই দিলেন গুসকরার পুরপ্রধান বুর্ধেন্দু রায়।

Advertisement

এ দিন কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রকল্প থেকে পুরসভার কোন ওয়ার্ডে কত বাড়ি তৈরি হবে সে ব্যাপারে বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যুদয়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে হইচই শুরু হয়ে যাওয়ায় ওই বৈঠকের মাঝেই শুক্রবার কোন ওয়ার্ডে কত বিদ্যুতের খুঁটি বসেছে তার হিসেব দেন গুসকরার পুরপ্রধান বুর্ধেন্দু রায়।

সভায় তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “কাউন্সিলরেরা সঠিক তথ্য না জেনে বাইরে প্রকাশ করে দিচ্ছেন।” আবার তাঁর এই কথা বলার পরেই বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর তাঁকে চেপে ধরে প্রশ্ন করতে শুরু করে দেন।

Advertisement

বৈঠক চলাকালীন তৃণমূলের এক কাউন্সিলর সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর দেখিয়ে জানতে চান, আসল ঘটনাটি কী? পুরপ্রধান জানান, বছর খানেক আগেই শহরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের বস্তি এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হয়েছে। সেই সব খুঁটিতে বিদ্যুতের সরঞ্জাম ও তার লাগানো হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “গুসকরা পুরসভার এক ও দুই নম্বর ওয়ার্ড মিলিয়ে ২৭টি, তিন নম্বর ওয়ার্ডে ১৯টি, চার নম্বরে ২৪টি, পাঁচ নম্বরে ১০টি, দশ নম্বরে ১০টি, ১৪ নম্বরে ১৩টি ও ১৫ নম্বরে ১১টি, মোট ১১৪টি বিদ্যুতের খুঁটি বসেছে। সেই সব খুঁটিতে তারও লাগানো হয়ে গিয়েছে।” তবে এক মাত্র তিন নম্বর ওয়ার্ড ছাড়া অন্য কোনও ওয়ার্ডের বস্তি এলাকায় এখনও আলো জ্বলেনি বলেও পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।

হিসেব পাওয়ার পর সিপিএম ও তৃণমূলের কাউন্সিলরেরা পুরপ্রধানের কাছে জানতে চান, ১৬২টির জায়গায় ১১৪টি বিদ্যুতের খুঁটি পড়ল কেন? বাকি খুঁটিগুলির কী হল? সিপিএমের কাউন্সিলর মনোজ সাউ বলেন, “খুঁটির হিসেব পেলেও আমরা যে সব অনিয়ম গুলি তুলে ধরেছিলাম তার কোনও সদুত্তর পুরপ্রধান এ দিন দেননি বা দিতে চাননি। বাকি ৪৮ খুঁটি কী হল তারও পরিষ্কার কোনও উত্তর তাঁর কাছ থেকে মেলেনি।”

Advertisement

বৈঠকের শেষে পুরপ্রধান বলেন, “দশ বছর আগে শহরে ৫৬টি বস্তিতে বিদ্যুদয়নের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আইএইচএসডিপি’ প্রকল্পে টাকা অনুমোদন হয়। সেই সময় বিদ্যুতের খুঁটির দাম ছিল ৩১০০ টাকা। দশ বছর পরে আমি কিনতে গেলে বিদ্যুৎ দফতর দাম নেয় খুঁটি প্রতি ৪৪০০ টাকা। স্বাভাবিক ভাবেই বিদ্যুতের খুঁটি কেনার জন্য যে টাকা ধার্য ছিল, সেই টাকায় ১৬২টি খুঁটি কেনা সম্ভব ছিল না।” পুরসভা সূত্রে জানা যায়, সে কারণে সব ওয়ার্ডে বিদ্যুতের খুঁটি বসেনি। তা নিয়ে তৃণমূল কী সিপিএমের কাউন্সিলরদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। একই সঙ্গে এখনও খুঁটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ হয়নি বলেও কয়কেজন কাউন্সিলর ক্ষোভ জানিয়েছিল পুরপ্রধানের কাছে। সেই প্রসঙ্গে পুরপ্রধান বলেন, “বিদ্যুৎ দফতর শহরের জন্য নতুন করে ১০টি ট্রান্সফর্মার বসাচ্ছে। সেই ট্রান্সফর্মার বসানো হয়ে গেলেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement