কোল ব্লক বণ্টনের আগে ইসিএলের সোদপুর এরিয়ার নরসমুদা কোলিয়ারির সীমানা বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়ে কয়লা মন্ত্রকে চিঠি পাঠাল আইএনটিইউসি। তাদের দাবি, এ নিয়ে ইসিএল তত্পর না হলে তাদের অনুমোদিত কোলিয়ারি মজদুর ইউনিয়ন অবস্থান-বিক্ষোভ করবে। ইসিএল সূত্রে জানা গিয়েছে, আর যে অংশে কয়লা আছে, সেই জায়গা অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
আইএনটিইউসি নেতৃত্ব দাবি করেছেন, সীমানা না বাড়ানো হলে চার বছরের বেশি এই নরসমুদা কোলিয়ারি চালানো যাবে না। কোল ইন্ডিয়ার অ ধীনস্থ ‘কোল মাইনিং, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইনিং ইনস্টিউট’ বছরখানেক আগে ‘বোর হোল’ করে দেখিয়ে দিয়েছে, ভূগর্ভে আরও এক কিলোমিটার এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। ওই এক কিলোমিটারের বেশির ভাগ অংশ ইস্কো কারখানার। তা সত্ত্বেও কয়লা কাটলে ইস্কোর ক্ষতি হবে না। কারণ, সে ক্ষে ওই অংশে মাটি থেকে ১৫০ মিটার নীচে কয়লা কাটা হবে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে তাতে ক্ষতির কোনও প্রশ্ন নেই। এই সীমানা বাড়ানো না হলে খনি বন্ধের পরে ভূগর্ভে কয়লার খঁুটি অবৈধ খননকারীরা কেটে নিয়ে যাবে। তার জেরে ধস, ভূগর্ভ থেকে আগুন ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকবে।
কোলিয়ারি মজদুর ইউনিয়নের নেতা সঞ্জয় মাজি দাবি করেন, “খনির অদূরেই অধিকাংশ সময়েই বেআইনি ভাবে কয়লা কাটা চলছে। পুলিশ-প্রশাসন মাঝে মাঝে সেই সব কুয়োখাদান বন্ধ করে। কিন্তু কিছু দিন পরেই আবার সেই তা খুলে চোরেরা খনন শুরু করে।” সঞ্জয়বাবুর অভিযোগ, ইসিএল কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকারের কাছে ওই বর্ধিত সীমানার জমির নকশা চেয়ে চিঠি পাঠালেও তা পাননি। সেটি দ্রুত পাওয়ার ব্যাপারে সংস্থা তত্পরতা দেখাচ্ছে না বলেও তাঁর দাবি। আইএনটিইউসি নেতাদের দাবি, সীমানা বাড়ানো হলে কোলিয়ারির মেয়াদ বছর কুড়ি বেড়ে যাবে। ইসিএলের সোদপুর এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজার গোরাচাঁদ বাউরি বলেন, “আমাদের ভূগর্ভে কয়লা তোলার এলাকা প্রায় শেষ। আর যে অংশে কয়লা রয়েছে, তা অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। কিছুটা সময় লাগবে।”