বন্ধ দোকান থেকে বেশ কিছু দুষ্প্রাপ্য কয়েন ও পুরনো মুদ্রা চুরি হয়ে গেল কালনায়। শনিবার রাতে শহরের ছোট দেউড়ি মোড়ের একটি দোকান থেকে ওই চুরি হয়। ঘটনার তদন্তও শুরু করেছে পুলিশ।
ওই এলাকায় পরপর তিনটি দোকানের মধ্যে দুটিতে ব্যবসা করেন পলাশ মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, একটি দোকানে ঘুড়ি, লাটাই-সহ বেশ কিছু মালপত্র রয়েছে। আর অন্যটিতে রয়েছে কম্পিউটারের নানা সরাঞ্জাম। পলাশবাবুর দাবি, ঘুড়ি-লাটাইয়ের ঘরটি নিয়মিত খোলা হয় না। তবে শনিবার রাতে কম্পিউটারের দোকান থেকেই দেখা যায় পাশের দোকানে ভিতর থেকে আলো জ্বলছে। অথচ শাটার বন্ধ। পরে শাটার খুলে দেখা যায় ভিতরের সমস্ত ড্রয়ার ভাঙা, ব্যবসার মালপত্র ঠিকঠাক থাকলেও চুরি গিয়েছে নগদ বেশ কয়েক হাজার টাকা ও বেশ কিছু পুরান মুদ্রা। পলাশবাবুর দাবি, কুড়ি বছর ধরে রাজ্যের নানা জায়গায় গিয়ে দেশ বিদেশের পুরানো শ’পাঁচেক মুদ্রা এবং বহু কয়েন জোগাড় করেছিলেন তিনি। মুদ্রাগুলির মধ্যে পুরনো দেশীয় এক, পাঁচ, দশ, কুড়ি পয়সা ছাড়া ছিল কুয়েত, বাংলাদেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সময়ের কয়েন। দেশীয় কয়েনে রামমোহন, ইন্দিরা গাঁধী, জওহরলাল নেহরুর ছবি ছিল। বেশ কিছু রুপোর এবং স্টিলের কিছু কয়েনও ছিল। পলাশবাবুর দাবি, লক্ষাধিক টাকা খরচ করে মুদ্রাগুলি জ়ড়ো করেছিলেন তিনি। অনেকে ভালবেসেও নিজের কাছে থাকা পুরনো কয়েন তুলে দিয়েছিলেন। ভবিষ্যতে এই সমস্ত কয়েনের ভাণ্ডার নিয়ে সংগ্রহশালা গড়ার ইচ্ছে ছিল তাঁর। পলাশবাবু বলেন, ‘‘নগদের থেকেও তিল তিল করে জমানো দুস্প্রাপ্য কয়েনগুলি হাতছাড়া হয়ে যাওয়া মানতে পারছি না।’’ কিন্তু সাটার বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কিভাবে দোকানে ঢুকলো দুষ্কৃতীরা? কালনা থানার পুলিশের দাবি, দোকানের পিছনে একটি চালকল রয়েছে। ওই চালকলের ভিতর দিয়েও দোকানের ভিতর ঢোকার দরজা ছিল। সেটি ভাঙা পাওয়া গিয়েছে।