বার্নপুরে তোলা —নিজস্ব চিত্র।
কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবার কোথাও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা--নানা অনুষ্ঠানে শুক্রবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১১৮ তম জন্ম দিবস পালিত হল রানিগঞ্জ-সহ শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়।
শুক্রবার থেকে আসানসোল গ্রাম সুভাষ সমিতির উদ্যোগে রামসায়র মাঠে শুরু হয়েছে ৬৮তম বার্ষিক উৎসব। উৎসব চলবে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। এ দিন ভোরে প্রভাতফেরির মধ্যে দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। ছিল বসে আঁকো, আবৃত্তি ও লোকনৃত্য প্রতিযোগিতা। সন্ধ্যায় আলোচনা সভায় ছিলেন আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক স্বামী সোহাত্মানন্দ। পরিবেশিত হয় নাটক ‘ভাড়াটে হইতে সাবধান’। উদ্যোক্তারা জানান, আজ, শনিবার আসানসোল গ্রামের প্রতিষ্ঠাতা নকড়ি রামকৃষ্ণ রায়কে নিয়ে একটি অনুষ্ঠান হবে। থাকবে খুশি সাজো, প্রশ্নোত্তর ও যোগাসন ও নাচের অনুষ্ঠান। পরের দিনগুলিতে থাকছে দেহ সৌষ্ঠব প্রতিযোগিতা, কবি সম্মেলন, নাটক ও গানের অনুষ্ঠান। আসানসোল গ্রাম সুভাষ সমিতির সভাপতি বাচ্চু রায় বলেন, “৬৮ বছর আগে নেতাজির স্মরণে শুরু হয়েছিল এই উৎসব।”
রানিগঞ্জের রবিন সেন স্টেডিয়ামে স্পন্দনের উদ্যোগে এ দিন আয়োজিত হয় আদিবাসী নৃত্য প্রতিযোগিতা। সেখানে প্রথম হয় পুরুলিয়ার ছাতা পাথর সম্প্রদায় ও দ্বিতীয় বাঁকুড়ার বেনাকানালি। আয়োজক সংস্থার পক্ষে শ্বাশতী চট্টোপাধ্যায় জানান, পরপর তিন বছর এই হচ্ছে। রানিগঞ্জ কালচারাল ফ্রন্টের অনুষ্ঠানে নেতাজির জীবন নিয়ে আলোচনা করেন আসানসোল আদালতের এজিপি অসীম ঘটক। আয়োজকদের পক্ষে খলিলুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর চাহিদাতেই এই অনুষ্ঠান। অন্ডাল মোড় থেকে সিঁদুলি পর্যন্ত ১০ কিমি ম্যারাথন আয়োজন করেছিল তৃণমূল। এলাকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনাও দেওয়া হয়। রানিগঞ্জের চাপুই গ্রামেও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা করে তৃণমূল। মোট ১৪টি ইভেন্টে শ’খানেক প্রতিযোগী যোগ দেন।
ফরওয়ার্ড ব্লকের উদ্যোগে কুলটি এলাকায় সুভাষ মোড়ে নেতাজির প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও শোভাযাত্রা হয়। আসানসোল পুরসভার উদ্যোগেও নেতাজি সুভাষ রোডে মূর্তিতে মালা দেন প্রশাসক বোর্ডের সদস্য তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন ক্লাব সংগঠনের উদ্যোগে পতাকা তোলা হয় শহরে। বারাবনিতে পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে একটি পদযাত্রা ও দৌড় আয়োজন করা হয়। একাধিক ক্লাব ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র দেওয়া ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফল বিতরণ করা হয়।