বাধা টপকে সাফল্য মন্দিরা, ঋত্বিকের

এক জনের বাবা রেস্তোরাঁয় কাজ করে সংসার চালান। সঙ্গে চালাতে হয় ছোট ছেলের চিকিৎসার খরচ। অন্য জনের বাবা বাড়ি-বাড়ি পুজো করে কোনও রকমে দিন গুজরান করেন। কিন্তু এ সবে মাধ্যমিকে ভাল ফল করা আটকায়নি দুর্গাপুরের মন্দিরা মুখোপাধ্যায় ও গলসির ঋত্বিক হাজরার।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০১৫ ০২:৩১
Share:

ঋত্বিক ও মন্দিরা।— নিজস্ব চিত্র।

এক জনের বাবা রেস্তোরাঁয় কাজ করে সংসার চালান। সঙ্গে চালাতে হয় ছোট ছেলের চিকিৎসার খরচ। অন্য জনের বাবা বাড়ি-বাড়ি পুজো করে কোনও রকমে দিন গুজরান করেন। কিন্তু এ সবে মাধ্যমিকে ভাল ফল করা আটকায়নি দুর্গাপুরের মন্দিরা মুখোপাধ্যায় ও গলসির ঋত্বিক হাজরার। মন্দিরা ৮৫ শতাংশ ও ঋত্বিক ৮৯ শতাংশ নম্বর পয়েছে। দুর্গাপুরের এডিসন রোডের বাসিন্দা মন্দিরার বাবা শুভ্রকান্তিবাবু সিটি সেন্টারে একটি রেস্তোঁরায় রাঁধুনি। শুভ্রকান্তিবাবু জানান, ছেলে মৃত্যুঞ্জয় হৃদরোগে ভুগছে। তার চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে রীতিমতো অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। তবে এ সবকিছু সামলেই মন্দিরা এ বার ইস্পাত নগরীর একটি বেসরকারি স্কুল থেকে মাধ্যমিকে ভাল ফল করেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি নৃত্যেও পারদর্শী মন্দিরা। তার প্রিয় বিষয় অঙ্ক। তবে মন্দিরার মা অপর্ণাদেবী বলেন, ‘‘মেয়ের পড়া কী ভাবে চালাব জানি না।’’

Advertisement

গলসির শিল্লা গ্রামের বাসিন্দা ঋত্বিকের বাবা মানিকবাবু ছেলেকে পূর্ব মেদিনীপুরে তমলুকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে এসেছিলেন। সেখানে হ্যামিলটন হাইস্কুল থেকেই ঋত্বিক মাধ্যমিক দেয়। কিন্তু এ বার নিজের গ্রামের স্কুল থেকেই পড়াশোনা করতে চায় ঋত্বিক। সে ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু খরচ কোথা থেকে আসবে জানেন না মানিকবাবু। তাঁর আশঙ্কা, ‘‘পুজো করে সামান্য রোজগার হয়। কীভাবে ছেলের স্বপ্ন সফল হবে জানি না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement