আসানসোল পুরসভা। —নিজস্ব চিত্র।
বোর্ডের মেয়াদ ফুরনো আসানসোল ও কুলটি পুরসভায় প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন আসানসোলের অতিরিক্ত জেলাশাসক অমিত দত্ত। আজ, বৃহস্পতিবার থেকে তিনি দায়িত্বভার নেবেন। বুধবার দুই পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেল।
রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া ও কুলটিশিল্পাঞ্চলের এই তিন পুরসভাকে আসানসোলের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের কথা মাস দুয়েক আগে জানায় রাজ্য সরকার। তখনই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, পুরবোর্ডের মেয়াদ ফুরোলেও নির্দিষ্ট সময়ে ভোট হচ্ছে না কুলটি ও আসানসোলে। যত দিন না তা হচ্ছে, প্রশাসকই কাজকর্ম চালাবেন দুই পুরসভায়। অতিরিক্ত জেলাশাসক অমিতবাবু বুধবার বলেন, “আমি এই দুই পুরসভায় প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করব। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্বভার নেব। দৈনন্দিন কাজকর্ম কী ভাবে চালাব তা পরে ঠিক করব।”
আসানসোল বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বাণী মণ্ডলের মতে, “জন প্রতিনিধি না থাকলে এলাকার উন্নয়ন ব্যাহত হয়। অতিরিক্ত জেলাশাসকের উপরে আস্থা রয়েছে। কিন্তু তাঁর তো আরও অনেক কাজ আছে। তিনি দু’টি পুরসভার দায়িত্ব পালন করবেন কী করে?” আসানসোল আপকার গার্ডেন এলাকার প্রাক্তন কলেজ শিক্ষক অরুণাভ দাশগুপ্তেরও বক্তব্য, “অতিরিক্ত জেলাশাসক এমনিতেই ব্যস্ত প্রশাসক। তার উপরে তাঁর পক্ষে নাগরিক পরিষেবার মতো দায়িত্ব পালন করতে সমস্যা হবে বলেই মনে হচ্ছে।” আসানসোল মহকুমা হাসপাতালের প্রাক্তন সুপার, গোপালপুরের বাসিন্দা শ্যামল সান্যালের আবার দাবি, “জনপ্রতিনিধি ছাড়া পুরসভা চলবে, এটা দুঃখজনক। নাগরিকেরা সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে পুরসভায় গিয়ে প্রশাসকের দ্বারস্থ হবেন, এটা হতে পারে না। এটা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির পরিপন্থী।” আসানসোল বণিকসভার সভাপতি সুব্রত দত্ত অবশ্য এখনই ধৈর্য হারাতে নারাজ। তিনি বলেন, “যে কোনও পরিবর্তনের শুরুতে কিছু সমস্যা হতে পারে। আমাদের অপেক্ষা করে দেখতে হবে। এখনই গেল গেল রব তোলা ঠিক নয়।”
পুরসভার সংযুক্তিকরণের যুক্তি দিয়ে আসলে শাসকদল ভোট পিছিয়ে দিতে চেয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। লোকসভা ভোটে আসানসোলে ৫০টি ওয়ার্ডের মাত্র ৫টিতে ও কুলটির ৩৫টি ওয়ার্ডের মাত্র দু’টিতে এগিয়েছিল তৃণমূল। বাকি সব ওয়ার্ডে এগিয়েছিল বিজেপি। বিজেপি-র দাবি, এখন পুরভোট হলে দুই পুরসভাতেই তৃণমূলের হার হত। সেটা বুঝেই তারা ভোট পিছিয়েছে। তৃণমূল নেতারা অবশ্য এ সব মানতে নারাজ। জেলা তৃণমূলের কার্যকরি সভাপতি ভি শিবদাসনের বক্তব্য, “বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভেবেই রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”