শীত পড়ার পরে দর কমতে শুরু করায় হাঁফ ছেঁড়ে বেঁচেছিলেন সকলেই। কিন্তু বড়দিন আসতেই ফের ক্রেতার চোখ কপালে। মাছ থেকে সব্জি— উৎসবের সময়ে ফের বেড়েছে দাম। বনভোজনের জন্য বাজার করতে গিয়ে তাই মেজাজ বিগড়ে যাচ্ছে অনেকেরই। দাম শীঘ্র কমার সম্ভাবনা রয়েছে, এমন আশার কথা শোনাতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।
দুর্গাপুরের চণ্ডীদাস বাজার ইস্পাতনগরীর বহু মানুষই সব্জি কেনাকাটা করেন। সেখানে প্রতি কিলোগ্রাম আলুর দাম ১০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১ টাকা। বড় মাপের ফুলকপি গত সপ্তাহে ৮-১০ টাকায় মিললেও বুধবার থেকে তার দাম হয়েছে ১২-১৪ টাকায়। একই অবস্থা মামরা বাজারেও। তবে একধাক্কায় অনেকটা দাম বেড়েছে বেগুনের। মামরা বাজারে যে এ সপ্তাহের গোড়াতেও মিলেছে ১৫ টাকায়, বড়দিনের ঠিক আগে তা বিক্রি হচ্ছে ১৮ টাকায়। মামরা বাজারের এক সবজি ব্যবসায়ী জানান, বেগুনের দাম শুক্রবার ৩০ টাকার উপরেও চড়ে যেতে পারে।
সিটি সেন্টারের বিভিন্ন সব্জির দোকানে খোঁজ নিয়ে আবার জানা যায়, ফুলকপির দাম ২০ টাকা ছাড়িয়েছে। তার সঙ্গে বেড়েছে মটরশুঁটি, গাজরের দামও। চণ্ডীদাস বাজারের এক ক্রেতা তুহিন রায় বলেন, ‘‘শীতে সব্জির দাম বরাবরই কম থাকত। কিন্তু এখন দেখছি তা-ও থাকছে না।’’ এই সময়ে উচ্ছের জোগান বেশ কম থাকে বাজারে। সেই উচ্ছেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম দরে। চণ্ডীদাস বাজারের স্বপন মিত্র, মামরার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়েরা বলেন, ‘‘বড়দিনের আগে থেকেই সব্জির দাম একটু একটু করে বাড়ছে। পাইকারি দরও বেড়ে যাওয়ায় দিন কয়েকের মধ্যে সবজির দাম আর একটু বাড়বে।’’
শুধু যে সব্জির দাম ঊর্ধ্বমুখী, তা নয়। তাল মিলিয়ে বাড়তে শুরু করেছে মাছের দামও। মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, বড়দিনের সময়ে চাহিদা সব থেকে বেশি গলদা, ইলিশ ও ভেটকি মাছের। এই সব মাছের দাম অনেকটা বেড়েছে। প্রতি কিলোগ্রাম ইলিশ ১০০০-১২০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৭০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বেনাচিতি বাজারের মাছ ব্যবসায়ী কালীপদ ধীবর বলেন, ‘‘এই সময়ে মাছের চাহিদা থাকে বটে, তবে আমদানি বেশ কম থাকে। সে জন্যও দাম অনেকটা বেড়ে যায়।’’ সব্জি ও মাছের চড়তে থাকা দরের মাঝে খাসির মাংসের দাম বাঁধা রয়েছে ৪০০-৪৪০ টাকায়। তবে মুরগির মাংসের দামের হেরফের হচ্ছে দিন-দিন। মুরগি মাংস রয়েছে ১৫০-১৬০ টাকা দরে। অর্থাৎ, মাংসেই খানিক স্বস্তি ক্রেতাদের।