শো-কজ সংস্থাকে

শিশুকল্যাণ দফতর থেকে নিখোঁজ ২ শিশু

দুটি শিশুকে উদ্ধার করে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দিয়েছিল রেলপুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে ঢলদিঘির শিশুকল্যাণ কমিটির দফতর থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে তাদের দুজনেই। জেলা সমাজকল্যাণ দফতরের দাবি, চাইল্ডলাইনের অসতর্কতার জন্যই উদ্ধার হওয়া শিশু দুটি নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০১:৪২
Share:

এখান থেকেই নিখোঁজ শিশুরা।—নিজস্ব চিত্র।

দুটি শিশুকে উদ্ধার করে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দিয়েছিল রেলপুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে ঢলদিঘির শিশুকল্যাণ কমিটির দফতর থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে তাদের দুজনেই। জেলা সমাজকল্যাণ দফতরের দাবি, চাইল্ডলাইনের অসতর্কতার জন্যই উদ্ধার হওয়া শিশু দুটি নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে। ওই সংস্থাকে শো-কজ করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সমাজকল্যাণ দফতর। বুধবার বর্ধমান থানায় এফআইআর করেছেন ওই সংস্থার বর্ধমানের কো-অর্ডিনেটর অভিষেক বিশ্বাস। বর্ধমান জেলা সমাজকল্যাণ দফতরের আধিকারিক অনির্বাণ চক্রবর্তী বলেন, “এ ধরনের ঘটনা একেবারেই মানা যায় না। কেন এমন ঘটল তা জানার জন্য চাইল্ড লাইনকে শো-কজের চিঠি পাঠানো হচ্ছে।”

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে বিহারের ছাপরা জেলার সুতিয়া এলাকার বাসিন্দা মনোহর মাহাত বর্ধমান থানায় এসে দাবি করেন, তাঁর ছেলে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে। বর্ধমান থানা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, সোমবার বিকালে আসানসোলের রেলপুলিশ স্টেশন থেকে এগারো বছরের একটি ছেলেকে উদ্ধার করে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দিয়েছিল। মনোহরবাবুকে বর্ধমান থানার পুলিশ ঢলদিঘির শিশুকল্যাণ কমিটির দফতরে খোঁজ নিতেও বলে। শিশুকল্যাণ দফতরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ছেলে পঙ্কজ সেখান থেকে পালিয়ে গিয়েছে। অথৈ জলে পড়ে যান মনোহরবাবু। তাঁর কথায়, ‘‘কয়েকজন সহৃদয় ব্যক্তির সহযোগিতায় সমাজকল্যাণ দফতরে গিয়ে শিশুকল্যাণ আধিকারিককে পুরো ঘটনা বলি।” সমাজকল্যাণ দফতরের দাবি, ওই বালক তার পিসেমশাইয়ের সঙ্গে পটনা থেকে টাটানগরের কাছে রায়পুর যাচ্ছিল। আসানসোল স্টেশনে সে নামলে ট্রেন ছেড়ে দেয়। স্টেশনে ঘোরাঘুরি করতে দেখে রেলপুলিশ ছেলেটিকে উদ্ধার করে আসানসোলের চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দেয়।

সমাজকল্যাণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পঙ্কজের পরিবারের জন্য মঙ্গলবার বেলা তিনটে পর্যন্ত আসানসোলেই অপেক্ষা করেন চাইল্ড লাইনের আধিকারিকেরা। কিন্তু কেউ না আসায় ওই দিন বিকেলে শিশুকল্যাণ কমিটির দফতরে নিয়ে আসা হয় পঙ্কজকে। সেখান থেকেই ফের নিখোঁজ হয়ে যায় পঙ্কজ। এ দিন তাঁর বাবা ও আত্মীয়স্বজনেরা সমাজকল্যাণ দফতরের আধিকারিক অনির্বাণ চক্রবর্তীর সঙ্গে দেখা করে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আবেদন জানান। ওই আধিকারিকও আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘‘বাড়ি ফিরে যান। ছেলেকে উদ্ধার করে আপনাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।”

Advertisement

পঙ্কজের মতোই মঙ্গলবার বিকালেই শিশুকল্যাণ কমিটির দফতর থেকে হারিয়ে যায় সাত বছরের একটি শিশু। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন সকালে বর্ধমান রেল পুলিশ পারভেজ আলম নামে ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দিয়েছিল। শিশুটির বাড়ি বিহারের ঔরঙ্গাবাদ এলাকায়।

কিন্তু চার দেওয়ালে ঘেরা শিশুকল্যাণ কমিটির দফতর থেকে এক সঙ্গে দু’জন পালিয়ে গেল কী করে? চাইল্ড লাইনের এক কর্তা বলেন, “ওই দুই জনকে সরকারি হোমে রাখার নির্দেশ হয়ে গিয়েছিল। তাঁরা কমিটির দফতরে ছিল। আরও দু’জনের নির্দেশের জন্য কমিটির দফতরে আমাদের কর্মীরা তাড়া দিচ্ছিলেন। এর সঙ্গে হোমে থাকা এক কিশোরীকে তার বাড়ির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছিল। এর মাঝেই কোনও ভাবে ওই দু’জন পালিয়ে গিয়েছে।” যদিও ব্যাখা শুনে ক্ষুব্ধ দফতরের আধিকারিক অনির্বানবাবু। তিনি বলেন, “আমরা শিশুটির পরিবারকে কী জবাব দেব?”

কয়েকদিন আগেও শিশুকল্যাণ কমিটির মহিলা হোমের এক কিশোরী স্কুল থেকে পালিয়েছিল। তাকে মারধর ও বাসন মাজানোর কাজ করানো হতো বলে অভিযোগও উঠেছিল। পরে সমাজকল্যন দফতর জানতে পারে, স্কুলে গিয়ে মাদকদ্রব্য নেয় ওই কিশোরী। এখন ওই হোমেই কিশোরীর কাউন্সেলিং চলছে বলে জানা গিয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement