সরাসরি অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা পাবেন সহায়কেরা

এ বার থেকে মাসিক ভাতা সরাসরি নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই পেয়ে যাবেন শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের সহায়ক, সহায়িকা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের সম্প্রসারক-সম্প্রসারিকারা। ফলে তাঁদের আর শিক্ষাকেন্দ্রগুলির পরিচালন সমিতির দ্বারস্থ হতে হবে না। সহায়ক, সম্প্রসারকদের দাবি, এত দিন ঘুরপথে টাকা আসায় প্রতি মাসেই ভাতা পেতে দেরি হতো তাঁদের।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জুলাই ২০১৫ ০০:৩৪
Share:

এ বার থেকে মাসিক ভাতা সরাসরি নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই পেয়ে যাবেন শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের সহায়ক, সহায়িকা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের সম্প্রসারক-সম্প্রসারিকারা। ফলে তাঁদের আর শিক্ষাকেন্দ্রগুলির পরিচালন সমিতির দ্বারস্থ হতে হবে না। সহায়ক, সম্প্রসারকদের দাবি, এত দিন ঘুরপথে টাকা আসায় প্রতি মাসেই ভাতা পেতে দেরি হতো তাঁদের। এ বার সমস্যার সুরাহা হবে। এসএসকে, এমএসকের বর্ধমান জেলার নোডাল অফিসার কাজলকুমার রায়ের আশ্বাস, “এ মাস থেকেই এসএসকে, এমএসকের সহায়ক বা সম্প্রসারকরা এই সুবিধা পাবেন।”

Advertisement

“একে মাসের পর মাস ভাতা বকেয়া থাকত। তার উপর এক সঙ্গে টাকা
এলে নানা ভাবে টাকা চাওয়া হত। সমস্যা মিটবে আশা করি।”
—শিশুশিক্ষা ও মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের সহায়ক, ও সম্প্রসারকেরা।

সর্বশিক্ষা মিশন চালু হওয়ার সময় ৬ থেকে ১৪ বয়সী সবাইকে স্কুলমুখী করার উদ্দেশ্যে ২০০০ সালে প্রথমে শিশু শিক্ষাকেন্দ্র, পরে ২০০৩ সালে মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র তৈরি হয়। সেই সময় প্রতি আধ কিলোমিটারের মধ্যে প্রাথমিক স্কুল না থাকলে একটি করে শিশু শিক্ষাকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছিল। আর প্রতি আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল না থাকলে সেখানে মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। প্রথম থেকেই এই সব কেন্দ্রের সহায়ক বা সম্প্রসারকদের ভাতার টাকা চেয়ে সংশ্লিষ্ট সর্বশিক্ষা মিশনের আধিকারিকে চিঠি পাঠাতে হয়। সেই চিঠি পাওয়ার পরে সর্বশিক্ষা মিশন ভাতার বিল তৈরি করে। বিল জমা পড়ার পরে কেন্দ্র থেকে প্রথমে রাজ্যের সর্বশিক্ষা মিশনে টাকা আসে। তারপর সেখান থেকে জেলা সর্বশিক্ষা মিশনে টাকা পৌছয়। ২০১১ সালের পরে নিয়ম বদলে সর্বশিক্ষা মিশন থেকে ভাতার টাকা পাঠানো শুরু হয় জেলা পরিষদের অ্যাকাউন্টে। তারপরে জেলা পরিষদ ব্লকে এবং ব্লক থেকে কেন্দ্রের অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা পাঠানো হয়। পরে ওই সব কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালন সমিতির সম্পাদকেরা যৌথ ভাবে টাকা তুলে নিয়ে এসে সহায়ক বা সম্প্রসারকের মধ্যে ভাগ করে দেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ২০০০ টাকার বেশি হলে চেক দেওয়া নিয়ম। কিন্তু বেশির ভাগ কেন্দ্রের সহায়ক বা সম্প্রসারকরা নগদে ভাতা পান।

Advertisement

এত হাত ঘুরে টাকা আসায় স্বাভাবিক ভাবেই সহায়ক, সম্প্রসারকদের টাকা পেতে দু’মাস পেরিয়ে যেত। তাই দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি ব্যাঙ্ক আ্যাকাউন্টে ভাতা পাঠানোর দাবিও তুলেছিলেন তাঁরা। তাঁদের আরও অভিযোগ, এক সময় ছ’মাস পর্যন্ত ভাতা বকেয়া পরে থাকত। আবার মোটা অঙ্কের টাকা ভাতা হাতে এলেই নানা ‘উৎপাত’ শুরু হতো। সহায়কদের দাবি, পরিচালন সমিতির তরফে নানা ভাবে টাকা চাওয়া হত। এ নিয়ে একসময় কেতুগ্রাম ও রায়না থানায় অভিযোগও করেছিলেন সহায়কেরা। জেলা প্রশাসনের কাছেও স্মারকলিপি দিয়েছিল এমএসকে সম্প্রসারক, সম্প্রসারিকাদের সমিতি। সমিতির সম্পাদক মহাদেব সরকার বলেন, “নগদ টাকা পাওয়ায় নানা সমস্যা হয়। নতুন নিয়ম চালু হলে আশা করি, প্রতি মাসেই ভাতা ব্যাঙ্কে চলে আসবে। আর অনন্তকাল অপেক্ষা করতে হবে না।”

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানে শিশু শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে ১০৪৫টি। তাদের মোট সহায়ক ও সহায়িকা ২৯২৬ জন। আর ৯৯টি মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রে সম্প্রসারক-সম্প্রসারিকা রয়েছেন ৪৯২ জন। কাজলবাবুর আশ্বাস, “নতুন নিয়ম চালু হয়ে গেলে মাসিক ভাতা পেতে আর দেরি হবে না।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement